ম্যায় অগর কহুঁ তুমসা হাসিন, কায়ানাত মে নহি হ্যায় কাহিঁ, তারিফ ইয়ে ভি তো সচ হ্যায় কুছ ভি নহি... নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, কোন সুন্দরীর প্রশংসায় কথাগুলো বলা হচ্ছে? বলিউডে যদি একজনও অত্যন্ত প্রতিভাময়ী, ঝলমলে নায়িকা থেকে থাকেন যাঁর সৌন্দর্য চিরন্তন, তিনি নিঃসন্দেহে দীপিকা পাডুকোন! রেড কার্পেটে তাঁর সুপার গ্ল্যামারাস উপস্থিতিই হোক, বা চ্যাট শো বা এয়ারপোর্টে ক্যাসুয়াল লুকই হোক, অথবা সম্পূর্ণ ভারতীয় পোশাকেই হোক, দীপিকা সবসময়ই মুগ্ধ করেন!

একদম ছকভাঙা লুকে (গত বছরের গোড়ায় কান ফেস্টিভ্যালের লুকটা দেখে নিতে পারেন একবার) দীপিকা যতটা স্বচ্ছন্দ, ঠিক ততটাই অপরূপা একদম বেসিক এয়ারপোর্ট লুকেও। ঝলমলে শাড়ি আর খোঁপায় যেমন যে কোনও ইভেন্টে ঝলসে উঠতে পারেন তিনি, তেমনি ফ্রিল গাউন আর মোটা ক্যাট আইয়ে সেজে উঠেও সমান আকর্ষণীয় থাকেন। একদম মিনিমালিস্ট মেকআপেও দীপিকার সৌন্দর্য বারবার নজর কেড়েছে! এক কথায় দীপিকার রূপ বর্ণনা করতে হলে একটা শব্দই যথেষ্ট, ক্লাসি!

কোন কৌশলে দীপিকাকে প্রতিবার এমন সুন্দর দেখায় জানতে চান? হার্পার'স বাজারের একটি এপিসোডে নিজের হেয়ার আর মেকআপ আর্টিস্টকে সঙ্গে নিয়ে বেশ কিছু বিউটি সিক্রেট ফাঁস করেছিলেন দীপিকা। কী সেই রহস্য? জানতে হলে পড়তে থাকুন!

 

নিজের আইব্রো নিজেই করেন দীপিকা

নিজের আইব্রো নিজেই করেন দীপিকা

বিশ্বাস হল না নিশ্চয়ই? যাঁরা দীপিকার মেকআপের ব্যাপারে খুঁটিনাটি নজর রাখেন, তাঁরা স্বীকার করবেন আর কিছু না হোক, দীপিকার ভুরু সবসময় নিখুঁত থাকে। যতবার তাঁকে ক্যামেরার সামনে দেখা গেছে, প্রতিবার নজর কেড়েছে তাঁর সুঠাম, বাঁকা ধনুকের মতো ভুরুজোড়া। দীপিকার সঙ্গে গত দু'বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন যে মেকআপ আর্টিস্ট, সেই সন্ধ্যা শেখর জানাচ্ছেন, দীপিকা তাঁকে নিজের ভুরু ছুঁতেও দেন না! আসলে দীপিকা নিজেই নিজের ভুরু এত সুন্দর সাজিয়ে রাখতে পারেন, অন্য কারও হাত দেওয়ার দরকারটাই বা কী!

 

ত্বকের খুঁত নিয়ে ভাবিত নন দীপিকা

ত্বকের খুঁত নিয়ে ভাবিত নন দীপিকা

চড়া মেকআপ নয়, বরং নো মেকআপ লুকেই বেশি স্বচ্ছন্দ দীপিকা, আর এ কথা অনেকেই জানেন! কিন্তু এটা জানেন কি, ফাউন্ডেশন ব্যবহার করাও পছন্দ নয় নায়িকার? ফুল-কভারেজ ফাউন্ডেশন মুখের উপর একটা কৃত্রিম আস্তরণ তৈরি করে, যা অস্বস্তিতে ফেলে দেয় তাঁকে। বরং ত্বকের অসমান রং বা ছোটখাটো কালো দাগছোপ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না তনি। লুক তৈরি করার সময় মাত্র দু'ফোঁটা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেন দীপিকার মেকআপ আর্টিস্ট।

 

মাঝখানে সিঁথি না-পসন্দ দীপিকার

মাঝখানে সিঁথি না-পসন্দ দীপিকার

হ্যাঁ, এ কথা জেনে আপনার মতো আমরাও অবাক হয়েছিলাম বই কী! কারণ দীপিকার বেশিরভাগ হেয়ারস্টাইলেই তো মাঝখানে সিঁথি, বিশেষ করে খোঁপার ক্ষেত্রে! কিন্তু নায়িকা নিজেই জানাচ্ছেন, কেরিয়ারের গোড়ায় মাথার মাঝখানে সিঁথি করতে একদম ভালো লাগত না তাঁর। দীপিকার হেয়ার স্টাইলিস্ট গেব্রিয়েল জর্জিও জানাচ্ছেন শেষ অবধি অবশ্য বিয়ে, রিসেপশনের মতো বেশিরভাগ ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে বান স্টাইলই বেছে নিয়েছিলেন তাঁরা। ছিমছাম বান স্টাইলে মুখের উপরে চুল এসে পড়ে না, গয়নার জৌলুসটাও খোলে খুব ভালো!

 

রানওয়ে আর এডিটোরিয়াল দেখেই মেকআপ লুক ঠিক করেন দীপিকা

রানওয়ে আর এডিটোরিয়াল দেখেই মেকআপ লুক ঠিক করেন দীপিকা

গ্রাফিক আইশ্যাডোই হোক বা ওয়েট-হেয়ার হেয়ারস্টাইলই হোক, দীপিকার যে কোনও এক্সপেরিমেন্টাল লুকের মূল কথা হল আত্মবিশ্বাস। সন্ধ্যা জানাচ্ছেন, দীপিকার জন্য কোনও একটি লুক ঠিক করার আগে রানওয়ে আর স্টেটমেন্ট এডিটোরিয়াল লুক থেকে সাহায্য নেন তিনি। দীপিকা ওয়ার্ম টোন পছন্দ করেন, এবং সেই সব শেডই বেছে নেন যা তাঁর গায়ের রঙের সবচেয়ে কাছাকাছি, তাই দীপিকার মেকআপে সবসময়ই একটা মিনিমাল ব্যাপার মিশে থাকে।

 

ককটেল থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন দীপিকা

ককটেল থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন দীপিকা

বারবার নিজের লুক আর মেকআপে বদল এনেছেন দীপিকা। তবে 2012 সালের ছবি 'ককটেল'-এর পর থেকেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে তাঁর পোশাক, কথাবার্তা আর আদবকায়দায় বিরাট বদল আসে। তাঁর চরিত্রের নাম ছিল ভেরোনিকা। এই চরিত্রটির মাধ্যমেই নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনেন দীপিকা, নিজের সঙ্গে ক্রমশ স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠেন। এই বছর থেকেই ফ্যাশন আর রূপচর্চা নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেন তিনি।

ছবি সৌজন্য: ইনস্টাগ্রাম ও পিন্টারেস্ট