স্বাস্থ্যে উজ্জ্বল আর সেলুলাইটবিহীন ত্বকের গোপন রহস্য হল, আপনি তার জন্য ঠিক কতখানি যত্ন নিচ্ছেন। আমরা নিয়মিত মুখের ত্বকের জন্য ক্লিনজ়িং-টোনিং-ময়শ্চারাইজ়িং করে থাকি বটে, কিন্তু এখানে আমরা বিশদভাবে আলোচনা করতে চাইছি সেই পরিচর্যাটি নিয়ে, যাতে শুধু মুখের ত্বকই নয়, সামগ্রিকভাবে আপনার সমস্ত শরীরের ত্বকের স্বাস্থ্যেরই উন্নতি হবে। আমরা আজ আলোচনা করব ড্রাই বডি ব্রাশিং নিয়ে।

ত্বকের এক্সফোলিয়েশন করা থেকে শুরু করে শরীরকে ডিটক্স করা পর্যন্ত যাই করুন না কেন, আপনার ত্বক পরিচর্যার নিয়মিত অভ্যাসের মধ্যে ড্রাই বডি ব্রাশিংকে অতি অবশ্যই রাখতে হবে। নাম দেখেই বুঝতে পারা যাচ্ছে যে ড্রাই ব্রাশিং হল ত্বকে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে শুকনো ব্রাশ চালানো, এবং অবশ্যই তা স্নানের আগে।

ড্রাই বডি  ব্রাশিংয়ের উপকার আর সে সম্বন্ধে কিছু তথ্য

Is dry brushing

ত্বকের এক্সফোলিয়েশন

আপনি কি জানেন? শক্ত দাঁড়ার ব্রাশ দিয়ে সারা শরীর ব্রাশ করলে ত্বকের মৃত কোষগুলি আলগা হয়ে খসে পড়ে আর ত্বকের অমসৃণ ধরন দূর হয়ে ত্বকের মসৃণতা ফুটে ওঠে। ড্রাই ব্রাশিং হল ত্বক এক্সফোলিয়েট করার সবচেয়ে স্বাভাবিক পন্থা। প্রতিদিনের ত্বক পরিচর্যায় যদি এই ড্রাই ব্রাশিংকে জায়গা দেন, তা হলে কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পরেই দেখতে পাবেন যে আপনার শরীরের ত্বকে শুষ্ক আর নিষ্প্রাণভাব কমে গিয়ে ত্বক হয়ে উঠেছে কোমল আর মসৃণ। আর ঘাবড়াবেন না, এটি এমন কিছু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার নয়। প্রতিদিন স্নানের সময়ে সঙ্গে রাখুন আপনার ব্রাশ আর স্নান করার আগে সারা শরীরে প্রথমেই 5 থেকে 7 মিনিট ড্রাই ব্রাশিং করুন।

রোমছিদ্র পরিষ্কার করে

এক্সফোলিয়েট করলে রোমকূপ থেকে সমস্ত ধুলোময়লা, তেল আর আবর্জনা দূর হয়ে যায়, রোমকূপ ছোট আর পরিচ্ছন্ন থাকে। মুখ আর শরীরের জন্য একই ব্রাশ ব্যবহার করবেন না। শরীরে ব্যবহারের ব্রাশ হওয়া উচিত সামান্য শক্ত ধরনের আর মুখের জন্য চাই অপেক্ষাকৃত কোমল ব্রাশ, যাতে কোনও আঘাত না লাগে। মুখের ত্বকে ড্রাই ব্রাশিং করার পরে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে আপনার মুখের রোমছিদ্রগুলি অপেক্ষাকৃত কম নজরে পড়ছে।

অ্যাকনে, ব্ল্যাকহেডস আর সেলুলাইট কমায়

মুখে মৃত কোষ জমতে জমতে এবং সেই সঙ্গে বাড়তি তেলের কারণে ত্বকে অ্যাকনে, ব্ল্যাকহেড এবং অন্যান্য দাগছোপ দেখা দিতে পারে। ত্বকের বিশ্রী বিবর্ণভাব থেকে মুক্তি পেতে ড্রাই ব্রাশিংয়ের অভ্যাস করুন। কোমল আর সূক্ষ্ম রোঁয়ার ফেসিয়াল ব্রাশ ব্যবহার করে মুখে ড্রাই ব্রাশিং করুন। এ কথাও ভুলবেন না, ড্রাই ব্রাশিং রক্ত চলাচলের উন্নতি ঘটায় আর তার ফলে আপনি সেলুলাইটের হাত থেকে মুক্তি পান।

শরীরে ড্রাই ব্রাশিং করার সময়ে কোন কোন কথা মনে রাখবেন
 

শরীরে ড্রাই ব্রাশিং করার সময়ে কোন কোন কথা মনে রাখবেন

  • পায়ের পাতা থেকে ড্রাই ব্রাশিং শুরু করে ধীরে ধীরে লম্বা লম্বা স্যুইপে ব্রাশ ঘুরিয়ে উপরের দিকে উঠুন। নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে ঠিকঠাক শরীরের প্রতিটি অংশে একাধিকবার ব্রাশ করছেন আর সব সময়েই যেন ব্রাশ চালানোর অভিমুখ থাকে আপনার হৃদপিণ্ডের দিকে, যাতে রক্ত চলাচলের পথ সুগম হয়।
  • সংবেদনশীল জায়গায় সাবধানে হালকা হাতে ব্রাশ করুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখবেন ব্রাশ চালালে অস্বস্তি কম হচ্ছে।
  • প্রতিদিন  আপনার ড্রাই ব্রাশিংয়ের মেয়াদ হবে 5 থেকে 10 মিনিট।
  • ব্রাশ করা শেষ হলে এবার স্নানের পালা। রক্ত চলাচল ঠিকঠাক করার জন্য জলের তাপমাত্রা গরম আর ঠাণ্ডা... এভাবে  ক্রমাগত বদল করে করে  নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • স্নানের পরে শরীরে ময়শ্চারাইজ়ার লাগানো অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে ড্রাই ব্রাশিংয়ের পরে। এতে আপনার ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ঠিকঠাক বজায় থাকবে।যেভাবে যত্ন নিয়ে মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার করেন, সেভাবেই প্রতি সপ্তাহে সাবান আর জল ব্যবহার করে  নিয়মিত আপনার বডি ব্রাশও পরিষ্কার করুন, যাতে সবসময়েই স্বাস্থ্যসম্মত জিনিস ব্যবহার করা সম্ভব হয়।