থ্রেডিং বা মুখের রোম তোলার মতো সাধারণ কাজের জন্য পার্লার দৌড়োন বুঝি? উঁহু, ভুরু কোঁচকাবেন না, আপার লিপ, ভুরু আর মুখের বাড়তি রোম পুষে রাখতে বলছি না একেবারেই! তবে থ্রেডিং করা ছাড়াও নানাভাবে মুখের বাড়তি রোম থেকে মুক্তি পেতে পারেন আপনি, কোনওরকম সুতো বা ওয়াক্সের সাহায্য না নিয়েই! বিশ্বাস হচ্ছে না? তা হলে পার্লার বাদ দিয়ে একবার আমাদের বলে দেওয়া ঘরোয়া আর পরীক্ষিত পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে দেখুন!

 

01. শেভিং

01. শেভিং

রেজর বা ফেসিয়াল রেজর ব্যবহার করা অনেক সুবিধাজনক। শেভিং করলে রোম গোড়া থেকে উঠে আসে না ঠিকই, কিন্তু ব্যথাহীন হওয়ার কারণে এই পদ্ধতি অনেকেই পছন্দ করেন, আর ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন মুখ পাওয়া যায় সহজেই। মুখে ময়শ্চারাইজিং লোশন বা শেভিং জেল লাগানোর পরে যে সব জায়গা থেকে বাড়তি রোম তুলতে চান, সেখানে রোমের বৃদ্ধির অভিমুখে রেজর চালান। 45 ডিগ্রি কোণ করে ক্ষুর ধরুন, তারপর ছোট ছোট হালকা স্ট্রোকে তুলে ফেলুন বাড়তি রোম।

 

02. টুইজিং

02. টুইজিং

ভুরু শেপে রাখতে সহজ পদ্ধতি হল টুইজিং। টুইজার বা সন্না দিয়ে ভুরুর ছোট ছোট বাড়তি রোম তুলে ফেলে সহজেই সাজিয়ে নিতে পারেন আপনার ভুরুদুটি। একটু ব্যথা লাগলেও এই পদ্ধতিতে রোম গোড়া থেকে উঠে যায়, আর তিন থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। রোমের বৃদ্ধির অভিমুখে প্লাক করবেন, আর এক একটা রোম টেনে তোলার সময় ওই অংশের ত্বক টেনে ধরে রাখবেন। চিবুকে বাড়তি রোম থাকলেও এভাবেই টুইজার দিয়ে তুলে ফেলতে পারেন।

 

03. এপিলেশন

03. এপিলেশন

এপিলেশন করে রোম তুললে প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত ত্বক পরিচ্ছন্ন থাকে। এই পদ্ধতিটি ক্ষুরের মতোই কাজ করে, কিন্তু তফাতটা হল, এ ক্ষেত্রে অনেকগুলো রোম একসঙ্গে গোড়া থেকে উঠে যায়। এই পদ্ধতিতে ত্বক ধীরে ধীরে মসৃণ হয়ে ওঠে, খুচরো ছোট রোমের সমস্যাও থাকে না। এপিলেটর ছোট-বড় নানা আকারে পাওয়া যায়, ফলে মুখের সঙ্গে মানানসই এপিলেটর বেছে নিতে পারবেন। 90 ডিগ্রি কোণ করে এপিলেটর ধরুন। অন্য হাতে ত্বক টেনে ধরে রাখুন। রোমের বৃদ্ধির অভিমুখে এপিলেটর চালান ধীরে ধীরে হালকা হাতে। এই পদ্ধতিতে একটু ব্যথা লাগবে, তাই হাতের কাছে রাখুন আইস কিউব।

 

04. ডেপিলেটরি ক্রিম

04. ডেপিলেটরি ক্রিম

চলতি কথায় হেয়ার রিমুভিং ক্রিম বা রোম তোলার ক্রিম। এই ক্রিম রোমের গঠনটাকে ভেঙে দেয়। তবে মুখে গাদাখানেক হেয়ার রিমুভিং ক্রিম মেখে ফেলার আগে প্যাচ টেস্ট করে দেখে নিন চুলকোচ্ছে বা জ্বালা করছে কিনা বা অন্য কোনও প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা। মুখে যাতে ফোসকা না বেরোয়, সে জন্যই প্যাচ টেস্ট করা দরকার। টেস্ট করার পর অন্তত 24 ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যেখানে যেখানে অবাঞ্ছিত রোম রয়েছে, তার ওপর ক্রিম লাগান। কয়েক মিনিট রাখুন - কতক্ষণ রাখবেন জানতে প্যাকেজের গায়ের লেখা দেখে নিন। ভেজা কাপড় দিয়ে ক্রিম তুলে ফেলুন, তারপর মুখ ধুয়ে নিন।

 

05. সুগারিং

05. সুগারিং

সাধারণ ওয়াক্সিংয়ের চেয়ে সুগারিং অনেক ভালো পদ্ধতি। এটি ত্বকের পক্ষে কোমল, ততটা ব্যথাও লাগে না, তার ওপর প্রতিশ্রুতিমাফিক ফলও পাওয়া যায়। সুগারিংয়ের ফল প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ স্থায়ী হয়। ওয়াক্সিংয়ের মতো এটি ত্বকের সঙ্গে এঁটে বসে না, বা ত্বকের ওপরের অংশ তুলে আনে না - চিনি বরং ত্বকের বদলে রোমের সঙ্গেই এঁটে বসে। এই পদ্ধতিট ত্বকের গভীরে রোমের ফলিকলগুলোর ক্ষতি করে না। কিন্তু আপনার মুখে যদি ব্রণ, ফুসকুড়ি, ক্ষত বা ফোলাভাব থাকে, তা হলে সুগারিং করবেন না। আর সুগারিং করার দু'দিন আগে অবশ্যই ত্বক এক্সফোলিয়েট করে নেবেন। চিনি, লেবুর রস আর জল দিয়ে তৈরি করে নিন পেস্ট। ওয়াক্সিংয়ের সঙ্গে সুগারিংয়ের আর একটা তফাত আছে। সুগারিংয়ের ক্ষেত্রে মিশ্রণটা রোমের বৃদ্ধির বিপরীত অভিমুখে লাগাতে হয়, কিন্তু টেনে তুলতে হয় বৃদ্ধির স্বাভাবিক অভিমুখেই।