গ্রীষ্মকাল আর সানস্ক্রিন একেবারে হাতে হাত রেখে চলে| আপনারা, যাঁরা এ কথা মানেন না, আর সানস্ক্রিনের বদলে যে কোনও ধরনের ছায়ায় থাকার পক্ষপাতী, তাঁদের জানাই, আপনাদের কথা ভেবেই এই লেখার অবতারণা|

রোদের হাত থেকে ত্বকের সুরক্ষার জন্য বাইরে বেরোনোর সময়ে ছাতা বা স্কার্ফ নিয়ে বেরোলে তীব্র আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এমন একটা বিশ্বাস থাকা ভালো| কিন্তু শুধু সেটুকু সুরক্ষাই যথেষ্ট নয়| খোলা ত্বকে রোদ্দুর লাগলে ট্যানিং থেকে ত্বকের ক্যানসার পর্যন্ত সবই হতে পারে| সত্যি বলতে কী, চড়া রোদ্দুর ত্বকের পক্ষে কতটা বিপজ্জনক আর ক্ষতিকর, তা হয়তো আপনার কল্পনার বাইরে| ত্বকের কিছু পরিবর্তন দেখলেই আমরা ভাবি যে তা বয়সের কারণে হয়েছে। আসলে কিন্তু সূর্যের আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি ইলাস্টিন নামক ফাইবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করলে এমনটা হতে পারে| এই ফাইবার যখন ভেঙে যায়, তখনই চামড়া ঝুলে পড়ে আর তা সঙ্গে সঙ্গে প্রকট যদি বা নাও হয়, পরবর্তী সময়ে তা অবশ্যই চোখে ধরা পড়ে|

আপনাকে ত্বকের সুরক্ষার জন্য ঠিকঠাক জিনিসটি নির্বাচন করতে গেলে যা যা জানতে হবে, তা হল ...

রোদ্দুর লাগলে তার ফল কী কী হতে পারে
 

রোদ্দুর লাগলে তার ফল কী কী হতে পারে

আপনি কি জানেন যে তিনটি বিভিন্ন ধরনের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি আছে: ইউভিএ (UVA), ইউভিবি (UVB) আর ইউভিসি (UVC)? ইউভিএ রশ্মি হল এদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ এক্সপোজার| ইউভিবি রশ্মিতে যদিও এক্সপোজারের সম্ভাবনা কম, এটির তীব্রতা বেশি| আর সবচেয়ে ক্ষতিকর হল ইউভিসি রশ্মি| তবে সৌভাগ্যবশত পৃথিবীর ওজোন স্তরটি এই ক্ষতিকর রশ্মিকে প্রতিহত করে এবং তার ফলে আমাদের ইউভিসি রশ্মি থেকে কোনও বিপদের আশঙ্কাও থাকে না| যদিও ইউভি রশ্মি চোখে দেখা যায় না, সূর্যের আলোয় বেশিক্ষণ থাকলে এই রশ্মি আমাদের অজান্তেই আমাদের ত্বকের ভিতরের স্তরগুলিতে প্রবেশ করে| তার থেকেই আমরা ‘সানবার্ন’-এর বা রোদ্দুরে চামড়া ঝলসে যাওয়ার শিকার হই| এভাবে চামড়া ঝলসে গেলে দেহের কোষগুলি মরে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অথবা ক্যানসারও হতে পারে| যদি আপনার চামড়া লাল হয় ওঠে, ব্যথা বা চুলকানি হয়, ফোস্কা পড়ে, চামড়া উঠে যায় বা ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, তাহলে জানবেন আপনি নিশ্চিতভাবে ‘সানবার্ন’-এর বা রোদে পুড়ে যাওয়ার শিকার|

কেন ত্বকের সুরক্ষা জরুরি
 

কেন ত্বকের সুরক্ষা জরুরি

যদিও অল্প পরিমাণে ইউভি রশ্মি শরীরের পক্ষে উপকারি এবং কিছু কিছু স্বাস্থ্যসমস্যার মোকাবিলা করতে সহায়তা করে, এটির মাত্রা অতিরিক্ত হলে অর্থাৎ সূর্যের আলোয় শরীর বেশিক্ষণ উন্মুক্ত থাকলে কিন্তু ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ঘটতে পারে|

অকালে বুড়িয়ে যাওয়া: সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি আপনার ত্বকে অকালবার্ধক্য আনে অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের অনেকটা আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায়| এর ফলে ত্বকে সূক্ষ্ম বলিরেখা, কুঞ্চন আর কালো কালো ছোপ দেখা দিতে পারে|

ত্বকের পরিবর্তন: কিছু কিছু ত্বককোষ মেলানিনের সঙ্গে জোট বেঁধে শক্ত হয়ে ওঠে আর যা থেকে পরে ব্রণ, ছুলি আর আঁচিল হতে পারে| আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়টি হল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা থেকে ক্যানসারও হতে পারে|

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বিপন্ন হতে পারে: আমাদের শরীরে শ্বেত রক্তকোষ রোগ প্রতিরোধ করে| যখন ত্বক অতিরিক্ত রোদ লেগে ঝলসে যায়, এই কোষগুলি নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করতে সচেষ্ট হয়| তার ফলে শরীরের অন্যান্য অংশের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বিপন্ন হতে পারে|

চোখের আঘাত বা ক্ষত: ইউভি রশ্মির ক্ষমতা আছে আপনার চোখের টিস্যু নষ্ট করার| এই রশ্মি বাইরের স্তর অর্থাৎ কর্নিয়া পুড়িয়ে ফেলতে পারে আর তার ফলে আপনার দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়| এর ফলে ছানি পড়ে পরবর্তীকালে, এমনকী অবহেলা করে ফেলে রাখলে আপনি অন্ধও হয়ে যেতে পারেন|

স্কার্ফ বনাম সানস্ক্রিন
 

স্কার্ফ বনাম সানস্ক্রিন

ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি নিঃসন্দেহে আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যহানি ঘটায়| তবে কীভাবে তার মোকাবিলা করবেন, সে সিদ্ধান্তও কিন্তু আপনিই নিতে পারেন| আপনি যদি মনে করে থাকেন যে স্কার্ফ আর টুপি গ্রীষ্মকালে আপনার জন্য অপরিহার্য, তাহলে ঠিকই ভেবেছেন। কারণ এগুলি আপনাকে হিটস্ট্রোক থেকে সুরক্ষা দেয়| কিন্তু ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে স্কার্ফ আর টুপিই যথেষ্ট নয়, আরও অনেক কিছুই চাই|

জেনে নিন কীভাবে নিজের ত্বককে সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষিত রাখবেন:

সানস্ক্রিন: সারা জীবন সানস্ক্রিনকে পরম বন্ধুর জায়গা দিন| এসপিএফ (SPF) যত বেশি, তত বেশি আপনার সুরক্ষা| ব্রড-এক্সপোজার সানস্ক্রিন ইউভিএ আর ইউভিবি... দু’ ধরনের রশ্মিকেই আটকাতে পারে| আমরা পরামর্শ দেব, আপনি ল্যাকমে সান এক্সপার্ট এসপিএফ 24++ ইউভি লোশন লাইট ফিল ব্যবহার করুন এবং বাইরে বেরনোর 30 মিনিট আগেই মেখে নিন| সবসময়ে মনে রাখবেন যে যে সব জায়গা চট করে আমাদের নজর এড়িয়ে যায়, সেখানে সেখানে সানস্ক্রিন লোশন লাগানো খুব জরুরি, যেমন কান, ঠোঁট আর হেয়ারলাইন| ভালো ফল পাওয়ার জন্য 2-3 ঘণ্টা অন্তর অন্তর এটি লাগিয়ে যান|

কতক্ষণ রোদে থাকবেন, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন: আপনি কি জানেন যে রোদের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে সকাল 10টা থেকে বিকেল 4টে পর্যন্ত? তাই এই সময়টুকুতে অন্তত সরাসরি সূর্যের আলো শরীরে না লাগানোই ভালো| যদি এই সময়ের মধ্যে আপনাকে বাইরে বেরোতেই হয়, তাহলে ছোট ছোট অবসর নেবেন| রোদের থেকে শরীর আড়াল করতে বাইরে থেকে ঘরের ভিতরে যান, ছায়ায় থাকুন, ছাতা ব্যবহার করুন বা মাথা ঢেকে রাখুন টুপি বা স্কার্ফ দিয়ে| ইউভি রশ্মি আটকাতে পারে, তেমন রোদ-চশমা ব্যবহার করাই ভালো| চড়া রোদ থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য ভালোভাবে শরীর ঢেকে রাখতে পারলে তা অবশ্যই বাড়তি সুরক্ষা দেবে|