শুষ্ক ত্বকের মোকাবিলা করা মোটেই সহজ কাজ নয়।  আমরা জানি যে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আপনি নিশ্চয়ই আপনার প্রিয় ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করেন, যাতে আপনার ত্বকে কিছুটা হলেও আর্দ্রতা আসে । কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, ময়শ্চারাইজার ব্যবহার যদিও ত্বকে খানিক বাড়তি জল আর আর্দ্রতা যোগ করে, আসল উপকার পাওয়া যায় যদি এমন কিছু বদভ্যাস দূর করা যায়, যেগুলির জন্য আমাদের ত্বকে অবাঞ্ছিত শুষ্কতা আসে। আমরা এখানে পাঁচটি অভ্যাসের কথা বলব, যেগুলি আমাদের ত্বকে শুষ্কতার জন্য দায়ী।

1. অতিরিক্ত ত্বক পরিষ্কার

2. সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজ না করা

3. অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন

4. অতিরিক্ত গরমজলের ব্যবহার

5. খাদ্য ও জলপানের ভুল অভ্যাস

1. অতিরিক্ত ত্বক পরিষ্কার
 

1. অতিরিক্ত ত্বক পরিষ্কার

ত্বকের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মুখ পরিষ্কার অপরিহার্য, কিন্তু অতিরিক্ত সময় ধরে বা বারবার পরিষ্কার করার অভ্যাস থাকলে তা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে আপনার ত্বককে শুষ্ক করে তোলে। আপনার ত্বকের যদি শুষ্ক হওয়ার প্রবণতা থাকে, আমাদের মত হল আপনি ময়শ্চারাইজিং ক্লেনজার ব্যবহার করুন, যেমন ল্যাকমে ডিপ ক্লেনজার ক্লেনজিং মিল্ক, যা একই সঙ্গে ত্বক পরিষ্কার করে এবং তার আর্দ্রতাও বজায় রাখে। তবে, এটি কিন্তু দিনে একবারের বেশি ব্যবহার করবেন না ।

2. সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজ না করা
 

2. সঠিকভাবে ময়শ্চারাইজ না করা

আমরা জানি, আপনারা বেশিরভাগ মানুষই কী ভাবছেন । এটাই ভাবছেন যে ময়শ্চারাইজ করা আর কী এমন বড় ব্যাপার ! আমাদের অনুরোধ, ত্বক  খুব বেশি শুষ্ক হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না । বরং তার বদলে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করে আপনার ত্বকে যে স্বাভাবিক আর্দ্রতা আছে, সেটি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করুন। স্নানের পরে ত্বক আর্দ্র থাকতে থাকতেই আপনার পছন্দের ময়শ্চারাইজারটি লাগিয়ে ফেলুন, যাতে ত্বক এটি সম্পূর্ণ শুষে নিতে পারে এবং ত্বকের অভ্যন্তরে এটি রয়ে যায়। আমাদের পছন্দ কোনটি? ল্যাকমে অ্যাবসোলিউট স্কিন গ্লস জেল ক্রীম, যেটি শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা আনে আর তাকে উজ্জ্বল করে তোলে ।

3. অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন
 

3. অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন

আপনি যখন এক্সফোলিয়েট করেন, তখন আসলে মোলায়েম হাতে মৃত ত্বককোষগুলি ঘষে তুলে ফেলেন এবং তার ফলে আপনার ত্বকের ছিদ্রগুলি আর উজ্জ্বল স্বাস্থ্যবান ত্বককোষগুলি উন্মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু যদি খুব বেশিক্ষণ এক্সফোলিয়েট করেন বা খুব ঘন ঘন এক্সফোলিয়েট করেন, তা হলে আপনি কিন্তু অগোচরেই নিজের  সুস্থ ত্বককোষ এবং আর্দ্রতাকেও হারিয়ে ফেলবেন । নিয়ম করে নিন, যে দু’সপ্তাহ অন্তর মাত্র  একবার করে এক্সফোলিয়েট করবেন এবং করার পরেই শুষ্ক ত্বকে অতি অবশ্যই ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে ভুলবেন না ।

4 . অতিরিক্ত গরমজলের ব্যবহার
 

4 . অতিরিক্ত গরমজলের ব্যবহার

সারাদিন ধরে পরিশ্রমের পরে যখন ক্লান্তিতে শরীর অবসন্ন হয়, তখন মনে হয় দীর্ঘ সময় ধরে গরম জলে স্নান করলে সব ক্লান্তি কেটে যাবে । কিন্তু আপনার ত্বক যদি শুষ্ক ধরনের হয়, তাহলে এই গরমজলে দীর্ঘ সময় ধরে স্নান আপনার ত্বকের ক্ষতি করবে। আপনার ত্বকে স্বাভাবিকভাবে কিছু প্রয়োজনীয় তৈলাক্ত উপাদান তৈরি হয়, যেগুলি বেশিক্ষণ গরম জল ব্যবহারে ত্বক থেকে নির্মূল হয়ে যায়। ফলে ত্বক খসখসে রুক্ষ হয়ে যায়, যাতে চুলকানির প্রবণতাও জন্মায়। যদি গরম জলে স্নানের প্রলোভন একান্তই জয় করতে নাই পারেন, গরমজলের শাওয়ারের নিচে অনুগ্রহ করে দশ মিনিটের বেশি কখনও থাকবেন না ।

5. খাদ্য ও জলপানের অভ্যাস
 

5. খাদ্য ও জলপানের অভ্যাস

জল শুধু আপনার শরীরের অভ্যন্তরেই আর্দ্রতা আনে না, আপনার ত্বকেও আর্দ্রতা বজায় রাখে। বিশেষ করে শীতকালে। যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা নিয়মিত সারা বছর ধরে অভ্যাস না করেন, তা হলে আপনার ত্বক কিন্তু স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাবে। তাই সারা দিনে অন্তত আট গ্লাস জল পান করুন। সেইসঙ্গে খাবারে যোগ করুন স্বাস্থ্যকর স্নেহজ পদার্থে ভরপুর স্যামন মাছ আর আখরোট, যেগুলি আপনার ত্বককে বেশি করে স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।