বয়স হওয়ার আগেই যদি মুখে বয়সের দাগ পড়তে থাকে, বুড়িয়ে যেতে শুরু করে ত্বক, তা হলে খারাপ লাগে না বলুন! অকালে বুড়িয়ে যাওয়াকে তাই তো এত ভয় পান মেয়েরা! সত্যি বলতে, আমরা কেউই চাই না আমাদের আসল বয়সের চেয়েও বেশি বয়স্ক দেখাক! প্রিম্যাচিওর এজিং বা মুখে অকালে বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়ার পেছনে দুটি মূল কারণ হল অতিরিক্ত রোদ লাগা আর দূষণ।

সময়ের নিয়মে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বয়স বাড়লেও এমন কিছু শক্তিশালী উপাদান রয়েছে যা বয়সের গতিকে পুরোপুরি থামাতে না পারলেও অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। জানতে চান কী সেই সব উপাদান? তা হলে পড়তে থাকুন...

 

রেটিনল

রেটিনল

দৈনন্দিন ত্বক পরিচর্যার রুটিনে রেটিনয়েড থাকলে ত্বকের চেহারাটাই পালটে যেতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই কার্যকর উপাদান। রেটিনয়েড হল ভিটামিন এ-র একটি ধরন। মুখে সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখার আনাগোনা কমিয়ে কোলাজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে পারে রেটিনয়েড, একই সঙ্গে ব্রণ আর কালো দাগছোপের বিরুদ্ধেও লড়াই করে। বয়স 20-র কোঠায় থাকতে থাকতেই রেটিনয়েড ব্যবহার শুরু করে দেওয়া উচিত, তাতে দাগছোপ, বলিরেখা সহজে পড়বে না।

 

গ্লাইকলিক অ্যাসিড

গ্লাইকলিক অ্যাসিড

বয়স্ক ত্বক পরিচর্যার আর একটি জরুরি উপাদান হল গ্লাইকলিক অ্যাসিড। হাইপারপিগমেন্টেশন, সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখার মতো ত্বকের সমস্যা মেটাতে চাইলে এমন স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করতে শুরু করুন যাতে গ্লাইকলিক অ্যাসিড রয়েছে। ফেস ক্রিম, ক্লেনজার, টোনারে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত শতাংশ গ্লাইকলিক অ্যাসিড থাকে। যদি কোনও প্রডাক্টে 10 বা 20 শতাংশের বেশি গ্লাইকলিক অ্যাসিড থাকে, তা হলে তা ব্যবহার করার আগে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অবশ্যই নিয়ে নেবেন।

 

স্যালিসাইলিক

স্যালিসাইলিক

রাসায়নিক এই এক্সফোলিয়েন্টটি তেলতেলে ব্রণয় ভরা ত্বকের পক্ষে ভালো। এই বিটা-হাইড্রক্সি অ্যাসিডটি একদিকে যেমন ব্রণ কমানোর জন্য খুব কাজের স্পট ট্রিটমেন্ট, অন্যদিকে তেমনি বয়সের প্রাথমিক দাগছোপগুলোও কম করতে পারে এটি। তেলে দ্রাব্য (অয়েল সল্যুবল) হওয়ার সুবাদে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড তেলতেলে ত্বকের রোমছিদ্রের গভীরে পৌঁছে তা বন্ধ হতে দেয় না। তাই সিরাম আকারে হোক বা এক্সফোলিয়েন্ট, আপনার ত্বক যদি তেলতেলে হয়, তা হলে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডই আপনার ত্বকের সবচেয়ে সেরা বন্ধু।

 

ভিটামিন সি

ভিটামিন সি

ত্বক পরিচর্যা সম্পর্কে যদি আপনার মোটামুটি ধারণা থাকে, তা হলে তো জানেনই ইদানীং ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শক্তিশালী এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টটি আপনার ত্বককে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল জনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিন আপনার ত্বক নিয়ম করে চড়া তাপমাত্রা, দূষণ, ধুলোময়লা, তেলকালি আর নোংরার শিকার হয়। ভিটামিন সি সিরাম মাখতে শুরু করলে ত্বকের টেক্সচারে খুব বড় তফাত দেখতে পাবেন আপনি। পরিবেশের হামলার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করা ছাড়াও গায়ের রং উজ্জ্বল করে তুলতে পারে ভিটামিন সি।

 

নিয়াসিনামাইড

নিয়াসিনামাইড

ত্বক পরিচর্যার জন্য এমন মাল্টি-টাস্কিং উপাদান খুঁজছেন যা একাধিক সমস্যা একসঙ্গে মিটিয়ে দিতে পারে? আপনার দরকার নিয়াসিনামাইড। ভিটামি বি থ্রি-এর একটি ধরন হল এই নিয়াসিনামাইড। দাগছোপ তুলে ত্বকের রং সমান করা ছাড়াও ত্বকের লালচেভাব আর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে নিয়াসিনামাইড, সূক্ষ্ম রেখা আর বলিরেখার আনাগোনাও আবছা করে দেয়। এই অ্যান্টিএজিং উপাদানটি ত্বকের কোষগুলিকে নতুন করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে, পাশাপাশি পরিবেশের নানা ক্ষতিকর দিক, যেমন তাপ, দূষণ ও অন্যান্য টক্সিনের হাত থেকেও ত্বককে সুরক্ষিত রাখে। প্রতিদিন ত্বক পরিচর্যার রুটিনে নিয়াসিনামাইড ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ত্বক মসৃণ ও সতেজ দেখায়।