কত বছর ধরেই তো শুনে আসছেন যে মেকআপ ব্যবহার করতে ব্রাশ লাগে, এমনটাই নিয়ম৷ কাইলি জেনার পর্যন্ত স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি ময়েশ্চরাইজ়ার লাগাতেও ব্রাশ ব্যবহার করেন| অন্য দিকে আবার আপনি এ-ও শুনেছেন যে ফাউন্ডেশন লাগাতে বিউটি ব্লেন্ডারই হল ঠিকঠাক জিনিস, যার কোনও বিকল্প হয় না| তাহলে কী করবেন? মেকআপ ব্রাশ বেছে নেবেন, না কি বিউটি ব্লেন্ডার? সব রকম তথ্য আর দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে বলা যায়, এই বেছে নেওয়ার কাজটা সত্যিই কঠিন| বেশি উতলা হবেন না| আমরা তো আছি আপনার জন্য! এই লেখাটি একেবারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন আর আমরা জানি, আপনি নিজের জন্য ঠিকঠাক জিনিসটিই বেছে নেবেন৷
বিউটি ব্লেন্ডার
 

বিউটি ব্লেন্ডার

আপনি যদি পুরোনো দিনের মানুষ হন, বা এমন কেউ, যিনি আধুনিক যুগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, তা হলে আপনার জেনে রাখা ভালো যে মেকআপ ব্লেন্ডার আসলে মেকআপ স্পঞ্জেরই একবিংশ শতাব্দীর পরিবর্তিত রূপ|

ভালো দিক
 
বেশিরভাগ ব্লেন্ডার আপনার ফাউন্ডেশনকে ত্বকের উপরে এবং ভিতরে সমানভাবে বসিয়ে দেয়, সেই কারণেই আপনার ত্বক হয়ে ওঠে নিখুঁত আর দেখে বোঝাও যায় না যে মেকআপ করা হয়েছে| এগুলিকে তো বলাই হয় বিউটি ব্লেন্ডার, এমন একটা নাম দেওয়ার সঙ্গত কারণ তো অবশ্যই আছে! এগুলি আপনার মেকআপকে অতুলনীয় দক্ষতায় এমনভাবে ত্বকে মিশিয়ে দেয় যে কোনও অবাঞ্ছিত রূপটানের ছোপ বা রেখা থাকে না| এ ছাড়াও ব্লেন্ডার এমন চমৎকারভাবে আপনার ত্বকের রঙের সঙ্গে প্রসাধনীটিকে মিলিয়ে দেয় যে আপনি পরিমাণে কম ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেও মেকআপের সম্পূর্ণ উপযোগিতা উপভোগ করতে পারেন|

যদি আপনার ত্বক শুষ্ক প্রকৃতির হয়, তা হলে বিউটি ব্লেন্ডারই আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত| এর কারণ হল, ব্রাশের শক্ত আর কর্কশ রোম আপনার ত্বকে জ্বালা ধরাতে পারে আর ত্বক খসখসে হয়ে গেলে চিলতে চিলতে মৃত কোষ খসেও পড়তে পারে| বিউটি ব্লেন্ডারের মসৃণ মোলায়েম পৃষ্ঠতল ত্বকের যত্ন নেয় এবং আপনি নিশ্চিন্তে ত্রুটিহীনভাবে মেকআপ ব্যবহার করতে পারেন, আপনার মুখে ছোপ ছোপ হয়ে অসমানভাবে মেকআপের দাগ থাকে না|

খারাপ দিক

ব্লেন্ডারের সাহায্যে মেকআপ করতে গেলে থুপে থুপে, অল্প অল্প করে লাগাতে হয়, তাই অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে| যদি আপনার হাতে ভালোভাবে মেকআপ করার সময় না থাকে, এবং রূপের ব্যাপারে কোনও সমঝোতাও করতে রাজি না হন, তা হলে বিউটি ব্লেন্ডারকে দূরে রাখাই ভালো| বিউটি ব্লেন্ডারে ফাউন্ডেশন লাগাতে হয় কম পরিমাণে আর সেই কারণেই যে সব ফাউন্ডেশন লাইট কভারেজ দেয়, সেই ক্ষেত্রে বিউটি ব্লেন্ডারের ব্যবহার উপযুক্ত নয়| শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে ঠিকঠাক মেকআপ করতে অনেক বেশি পরিমাণে ফাউন্ডেশন খরচ হয়ে গিয়েছে, প্রসাধনীর খরচও বেড়ে যাবে অনেক|

প্রতিবার ব্যবহারের পরে বিউটি ব্লেন্ডার ঠিকমতো পরিষ্কার করতে হয়, সে কাজটিতে আমাদের বেশিরভাগেরই সময় বা ধৈর্যের অভাব দেখা দেয়|

মেকআপ ব্রাশ
 

মেকআপ ব্রাশ

ভালো দিক

আপনার যদি ‘এয়ারব্রাশ লুক’ পছন্দের হয়, তা হলে আপনার মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করাই ভালো| ব্রাশ সাধারণত নমনীয় হয় অর্থাৎ এদিক ওদিক বেঁকানো, হেলানো যায় আর ফাউন্ডেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিখুঁত কাজ করে| আপনার যদি তরল ফাউন্ডেশনের বদলে পাউডারজাতীয় ফাউন্ডেশন বেশি পছন্দের হয়, তা হলেও মেকআপ ব্রাশ আপনার জন্য আদর্শ| ব্রাশ তাই বহুমুখী দক্ষতার কারণে আপনার পছন্দের জিনিস হয়ে উঠতে পারে| আর মেকআপ ব্রাশ দক্ষ হাতে ব্যবহার করতে পারলে অনেক সহজে মুখে মেকআপের সম্পূর্ণ প্রলেপ দেওয়া যায়|

খারাপ দিক

যদিও বিউটি ব্লেন্ডারের মতো ঘন ঘন মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয় না, কিন্তু তবুও মাঝেমধ্যে তো ঠিকঠাক করে পরিষ্কার করতেই হয়! আর তার জন্য চাই পরিষ্কার করার এক বিশেষ  উপাদান, যেটি সাধারণত বেশ দামি|
এ ছাড়াও, ব্রাশ ব্যবহার করলে মুখে ব্রাশ দিয়ে রূপটান লাগানোর লম্বা লম্বা রেখা রয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়, আর যেখানে যেখানে ব্রাশের টান দিয়ে রেখাগুলি মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, সেগুলিও কখনও কখনও প্রকট হয়ে থাকে| ফলে সব মিলিয়ে আপনার চেহারা একেবারেই স্বাভাবিক মনে হয় না|