মুখের যত্নের কথা যখন আসে, তখন প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েন্টকে সরিয়ে প্রথম স্থানটা দখল করে নেয় কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট। মুখে জমে যাওয়া মৃত কোষ তুলতে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্টই আমাদের একমাত্র হাতিয়ার। শরীরের বাকি অংশের ত্বকের বেলায় কিন্তু ব্যাপারটা আলাদা। তার একটা কারণ এএইচএ আর বিএইচএ যুক্ত প্রডাক্ট এতটাই দামি হয় যে নিয়মিত কেনা মুশকিল হতে পারে। তাই বাজেটের কারণে শরীরের ত্বক এক্সফোলিয়েট করতে ভরসা রাখুন দুটি প্রধান ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটরের ওপর। খুব চেনা এই দুটি এক্সফোলিয়েটর হল নুনের স্ক্রাব আর চিনির স্ক্রাব। রান্নাঘরের এই দুটি উপকরণ ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে বা ওভার দ্য কাউন্টার পদ্ধতি হিসেবে মৃত কোষ এক্সফোলিয়েট করার কাজে খুব ভালোভাবে প্রয়োগ করা যায়। নুন বা চিনির মধ্যে যে খসখসে দানাদার ব্যাপারটা থাকে, তা ত্বকের ওপরে জমে যাওয়া মৃত কোষ ঝটপট তুলে ফেলে। কিন্তু নুন আর চিনির স্ক্রাবের মধ্যে তফাত কোথায় আর কোনটা ব্যবহার করা ত্বকের পক্ষে ভালো? জেনে নিন বিশদে আর বেছে নিন সহজেই...

সল্ট বনাম সুগার স্ক্রাব: দুটির মধ্যে তফাৎ কোথায় আর ত্বকের জন্য কোনটি বেছে নেওয়া উচিত

নুনের স্ক্রাব


নুন ও চিনি, এই দুটি উপাদানের মধ্যে স্ক্রাবে নুনই বেশি ব্যবহার করা হয়। নুনে প্রচুর খনিজ পদার্থ থাকে এবং এতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও ডিটক্স করার গুণ রয়েছে। নুনে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন এ এবং সি থাকে। কিন্তু নুনের দানা বড় বড় এবং বেশ কর্কশ আর খসখসে ধরনের। তাই শরীরের যে সব অংশের ত্বক বেশি শুষ্ক, যেমন হাঁটু, কনুই বা পায়ের জন্য সল্ট স্ক্রাব বেশি উপযোগী।

চিনির স্ক্রাব


চিনির স্ক্রাবে সাধারণত প্রাকৃতিক ও ফ্যাটি অয়েল থাকে, ফলে এটি প্রকৃতিগতভাবে অনেক বেশি হাইড্রেটিং। চিনি দিয়ে এক্সফোলিয়েট করার সময় নারকেল তেল ব্যবহার করা হয়, তাই ত্বক আর্দ্র থাকে, এক্সফোলিয়েশনও হয় ভালোভাবে। চিনির দানা নুনের তুলনায় অনেক ছোট এবং সমান আকারের, কাজেই ত্বকের ওপর তা নুনের তুলনায় কোমলভাবে কাজ করে। কিন্তু সুগার স্ক্রাব অতিরিক্ত ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। সুগার স্ক্রাব বেশি ব্যবহার করলে ত্বকের ওপরন গ্লাইসেটেড প্রোটিন জমে গিয়ে ত্বক অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে জন্য নুন হোক বা চিনি, দু' ধরনের স্ক্রাবই সপ্তাহে বড়জোর একবার কি দু'বার ব্যবহার করাই উচিত।

 

সল্ট বনাম সুগার স্ক্রাব: দুটির মধ্যে তফাৎ কোথায় আর ত্বকের জন্য কোনটি বেছে নেওয়া উচিত

কোন ধরনের স্ক্রাব আপনার পক্ষে ঠিক তা বুঝতে গেলে ত্বকের প্রয়োজন আর স্পর্শকাতরতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আগেই বলেছি, নুনের স্ক্রাব ত্বক শুষ্ক করে দেয়, তাই শুকনো, ক্লান্ত, ডিহাইড্রেটেড ত্বকে সল্ট স্ক্রাব ব্যবহার করার প্রশ্নই ওঠে না। শুষ্ক, ফাটা, রোদে পোড়া, ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের ওপরে কোনও ধরনের ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েন্টই ব্যবহার করা উচিত নয়। ত্বকে ঘষা লাগা, কেটে যাওয়া রুখতে সূক্ষ্ম আর কোমল দানার  স্ক্রাব ব্যবহার করুন। রইল নুন আর চিনি দিয়ে তৈরি দুটি জনপ্রিয় স্ক্রাবের রেসিপি -

  1. তেলতেলে ত্বকের জন্য ডিটক্সিফায়িং সল্ট স্ক্রাব - চটচটে গরমের দিনে এই স্ক্রাবটি খুব ভালো কাজ করে। এটি বানাতে আপনার লাগবে পরিমাণমতো রিফাইনড নুন, নিমপাতা গুঁড়ো, দু' তিন ফোঁটা বেসিল অথবা টি ট্রি অয়েল এবং অলিভ বা গ্রেপসিডের মতো কোনও কেরিয়ার অয়েল। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। স্ক্রাবটি বানানোর পর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন, বা কাচের বোতলে ঢেলে মুখ শক্ত করে বন্ধ করে রেখেও দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিন চারদিনের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলতে হবে।
  2. ক্লান্ত ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং সুগার স্ক্রাব - ক্লান্ত নিষ্প্রাণ ত্বক উজ্জীবিত করে তুলতে ব্যবহার করুন সুগার স্ক্রাব। মিহি দানার চিনি, গ্রিন টি পাউডার, দু' তিন ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল আর অ্যাভোকাডো অয়েল মিশিয়ে একটা নরম স্ক্রাব তৈরি করে নিন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করুন, বা কাচের বোতলে মুখ বন্ধ করে রেখে দিন। তিন থেকে চারদিনের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলুন।