এ কথা স্বীকার করে নিতেই হবে যে আমরা সকলেই প্রায়ই কোনও না কোনও কারণে ক্লান্তির শিকার, তা সে পড়াশুনোর চাপেই হোক, বা অন্য যে কোনও কাজের জন্য| আর দুর্ভাগ্য এটাই যে, এই ক্লান্তির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখের নীচে দেখা দেয় ডার্ক সার্কল, যা কিছুতেই যেতে চায় না| আপনি এর মোকাবিলা করতে চাইলে নিচের লেখাটি পড়ুন|

ডার্ক সার্কল দেখা দেওয়ার কারণ
 

ডার্ক সার্কল দেখা দেওয়ার কারণ

ডার্ক সার্কল সম্বন্ধে সবচেয়ে মারাত্মক ভুল ধারণা হল, যে এটি দেখা দেয় শুধুমাত্র ঘুম ঠিকঠাক না হলে| এ কথা একেবারেই সত্যি নয়| আসল কথা হল, অন্য অনেক কারণ আছে, যার জন্য আমরা সকালে উঠে দেখি যে আমাদের চোখের কোলে গভীর কালো ছোপ পড়েছে|

সূর্যরশ্মির প্রভাব: অতিরিক্ত সূর্যের আলো, অর্থাৎ রোদ্দুর ত্বকে বাড়তি  মেলানিন তৈরি করে, যে মেলানিন আসলে ত্বকের গাঢ় রঙের জন্য দায়ী৷

অ্যালার্জি ও অন্যান্য কিছু কারণ: কিছু কিছু অ্যালার্জি আপনার রক্তনালীগুলিকে চওড়া করে দেয়| আপনার চোখের ঠিক নিচে তা হলে তার প্রভাবে ত্বকে কালচে ভাব তৈরি হয়| আর আপনার চোখের নিচের সার্কল আরও প্রকট হয়ে ওঠে|

আয়রনের অভাব: রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রনের অভাব হলে চোখের নিচের ত্বককে আরও গাঢ় রঙের বা বিবর্ণ দেখায়| নানা কারণে শরীরে আয়রনের অভাব হতে পারে, যেমন গর্ভাবস্থায়, রজঃস্রাব চলাকালীন বা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আয়রনের অভাব থাকলে|

বয়স: প্রতিদিন একটু একটু করে আমাদের বয়স বেড়েই যায় এবং সেই সঙ্গে আমাদের ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণও কমতে থাকে| তার ফলে ত্বকের টানটান ভাবও কমে| ত্বকের এই পাতলা হয়ে আসাও কিন্তু তার জেল্লা কমায়| ত্বক আরও ট্রান্সলুসেন্ট হয়ে পড়ে আর তাই চোখের ত্বকের নিচে প্রবাহিত রক্তের কারণে তা কালচে দেখায়|

সমাধান
 

সমাধান

এবার আমরা আলোচনা করব সেই বিষয় নিয়ে, যার জন্য আপনি এতক্ষণ সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন| আমরা আপনাকে দেব এমন পরামর্শ, যাতে আপনি এই ডার্ক সার্কলকে চিরকালের জন্য বিদায় জানাতে পারেন|

প্রথম এবং সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া আর রাতে ভালো ঘুম| এটি চোখের নিচের কালি, দাগছোপ, বিবর্ণতা দূর করার সবচেয়ে উপযোগী পন্থা| কিন্তু আমরা জানি, সব সময়ে তেমনটা সম্ভব নাও হতে পারে, তাই আমরা আমাদের পছন্দসই কয়েকটি ঘরে তৈরি টোটকার কথাও বলব|

শসা: হ্যাঁ, এই অতি-পরিচিত, বহুল ব্যবহৃত বস্তুটি সত্যি সত্যিই কাজ করে! গোল করে কাটা শসার টুকরো বন্ধ চোখের উপরে বেশ কিছুক্ষণ  লাগিয়ে রাখুন| শসার ভিতরের অ্যাসকরবিক অ্যাসিড চোখের চারপাশে জমে থাকা বাড়তি জল বার করে দেয় আর ফোলা ভাব কমায়| শসায় আছে ত্বকের রং হালকা করার উপাদান, ফলে কালো ভাব কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এটি সহায়তা করে|
নারকেল তেল: নারকেল তেলে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই আর অ্যান্টিঅক্সিডান্টস, যা দক্ষতার সঙ্গে ত্বকের  ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলি মেরামত করে| নারকেল তেল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি, অর্থাৎ চোখের তলায় ফোলাভাব থাকলে সেটি কমিয়ে চোখের নিচে থলির মতো অবাঞ্ছিত ভাবও দূর করতে সাহায্য করে|

যদি মনে করেন, এইসব ঘরোয়া টোটকা আপনার জন্য উপযুক্ত নয় এবং আপনি কোনও বিশেষভাবে নির্ভরযোগ্য প্রোডাক্ট চাইছেন, তাহলে আমাদের কাছে আছে একেবারে ঠিকঠাক জিনিসের হদিশ| যেমন পন্ড’স গোল্ড রেডিয়েন্স ইউথফুল গ্লো ডে ক্রিম| এটিতে আছে কোলাজেন, যা এমন এক ধরনের ফাইবার, যা ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখে| আর  আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিডগুলি কাজ করে ত্বকের বিবর্ণ ম্যাড়ম্যাড়ে কোষগুলি দূর করতে, যাতে আপনার ত্বক দেখায় তরতাজা|

যদি আপনার তাড়া থাকে, বেরোনোর আগে হাতে সময় থাকে মাত্র দশ মিনিট, আর চটজলদি ডার্ক  সার্কল ঢাকতে হয়, তাহলে আমাদের পরামর্শ মেনে চলুন, আপনি নিশ্চিন্ত হতে পারবেন|

. ঠিকঠাকভাবে ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন লাগানোর পরে একটি কোরাল বা অরেঞ্জ লিপস্টিক নিয়ে আইশ্যাডো ব্রাশের সাহায্যে সেটি আলতো হাতে লাগাতে শুরু করুন আপনার চোখের নিচের পুরো অংশে -- এটি কালার কারেক্টরের কাজ করে |

.  যতক্ষণ না চোখের নিচের কালো দাগ পুরোপুরি ঢাকা পড়ছে, এটি লাগান |

. আপনি নিজে যখন সন্তুষ্ট হবেন, তখন এই লিপস্টিকের প্রলেপের উপরে ব্যবহার করুন কনসিলার| আমাদের পরামর্শ হল, এমন শেড বেছে নিন যা আপনার ত্বকের স্বাভাবিক টোনের তুলনায় এক বা দু’ শেড হালকা| তাতে আপনার চোখের নিচের অংশ সত্যিই অনেক উজ্জ্বল দেখাবে|

. এবার স্পঞ্জ বা হাতের আঙুল ব্যবহার করে কনসিলার ভালোভাবে মিশিয়ে দিন কালার কারেক্টরের প্রলেপের সঙ্গে, যাতে কোরাল বা অরেঞ্জ রং পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায়|

. কনসিলার সম্পূর্ণভাবে মিশিয়ে দেওয়ার পরে আর যেটুকু কাজ আপনার বাকি থাকবে, তা হল এই প্রসাধন নিখুঁত করার জন্য একটি  ফিনিশিং পাউডার ব্যবহার করা|