ত্বক পরিচর্যার দুনিয়ায় আপনি যদি নতুন হন, তা হলে আসুন আপনাকে সিরামের সঙ্গে পরিচয় করাই। সক্রিয় ক্ষমতাশালী নানা উপাদানে ভরা থাকে পাতলা এই তরলটি। ত্বকের গভীরে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে ত্বকে পুষ্টি জোগায় সিরাম। এই মুহূর্তে ইন্টারনেট ভেসে যাচ্ছে সিরামের প্রশংসায়, এবং আমরাও তার সঙ্গে একমত/ internet is in love with serums, and we can’t seem to agree more। তবে আর যে কোনও প্রডাক্টের মতোই কোনও একটি সিরাম সবার জন্য উপযুক্ত নয়। সিরামে এমন অনেক উপাদান আছে যা কোনও একটি বিশেষ ত্বকের ধরনের ওপরেই সবচেয়ে ভালো কাজ করে। নিজের উপযোগী সিরাম খুঁজে পেতে যদি অসুবিধে হয়, তা হলে ভরসা রাখুন আমাদের ওপর, আর নিচের তালিকা থেকে বেছে নিন আপনার ত্বকের উপযোগী সিরাম।

 

 

শুষ্ক ত্বক

শুষ্ক ত্বক

শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতার অভাব থাকে, কারণ এই ত্বকে সেবাম নিঃসরণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়। এই ধরনের ত্বকে বাইরে থেকে আর্দ্রতা জোগাতে হয়, তা না হলে শুষ্কতার কারণে ত্বকে টান ধরে, অস্বস্তি হয়। এই টানটানভাব থেকেই পরে বলিরেখা দেখা দিতে পারে, এমনকী কেটেছড়ে যেতে পারে বা ক্ষত দেখা দিতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো সিরাম হল ল্যাকমে অ্যাবসলিউট আর্গান অয়েল র‍্যাডিয়েন্স ফেস সিরাম উইথ মরোক্কান আর্গান অয়েল/ Lakmé Absolute Argan Oil Radiance Face Serum With Moroccan Argan Oil। এই সিরামে রয়েছে আর্গান অয়েল যা ত্বকের গভীরে ঢুকে পুষ্টি আর আর্দ্রতার জোগান দেয়। এই সিরামের টেক্সচার অত্যন্ত হালকা আর ত্বকে একটা সুন্দর জেল্লা এনে দেয়।

 

তেলতেলে ত্বক

তেলতেলে ত্বক

শুষ্ক ত্বকের একেবারে বিপরীত তেলতেলে ত্বক কারণ এই ত্বকে অতিরিক্ত সেবাম ক্ষরণ হয়। ফলে ত্বক তেলতেলে নির্জীব দেখায়।

তেলতেলে ত্বক হলে ব্রণর সমস্যাও দেখা যায় কারণ বাড়তি তেল ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ করে দেয়, এবং এই ত্বকে ধুলোময়লাও বেশি জমে। তাই তেলতেলে ত্বকের অধিকারীরা সিম্পল বুস্টার সিরাম - 10% নিয়াসিনামাইড ফর ইভন স্কিন টোন/Simple Booster Serum - 10% Niacinamide For Even Skin Tone ব্যবহার করুন। নিয়াসিনামাইড ক্লে-র মতো কাজ করে বাড়তি তেল শুষে নেয়। পাশাপাশি এটি ত্বকের হালকা এক্সফোলিয়েশন করে নতুন স্বাস্থ্যবান কোষ বাইরে বের করে আনে। ফলে তেলতেলেভাব আর নির্জীবভাব, দুটোই কমে যায় একইসঙ্গে!

 

ডিহাইড্রেটেড ত্বক

ডিহাইড্রেটেড ত্বক

ডিহাইড্রেটেড ত্বককে অনেক সময় শুষ্ক ত্বকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। শুষ্ক ত্বকে ময়শ্চারাইজারের অভাব থাকে, অন্যদিকে ডিহাইড্রেটেড ত্বকে হাইড্রেশন বা জলীয় উপাদানের অভাব থাকে। ত্বকের জল হয় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না, নয়তো নষ্ট হয়ে যায়। ত্বকে জল ধরে রাখতে তাই আপনার দরকার হিউমেকট্যান্ট।

সেরা হিউমেকট্যান্টগুলির মধ্যে অন্যতম হল হ্যালুরনিক অ্যাসিড। তাই ডিহাইড্রেটেড ত্বকের জন্য আমাদের পছন্দ সিম্পল বুস্টার সিরাম - 3% হ্যালুরনিক অ্যাসিড+বি ফাইভ ফর ডিপ হাইড্রেশন/Simple Booster Serum - 3% Hyaluronic Acid + B5 For Deep Hydration। এতে রয়েছে 0.5% সক্রিয় হ্যালুরনিক যা ত্বককে কার্যকরীভাবে হাইড্রেটেড রাখে, টেক্সচারও ভালো করে তোলে।

 

ব্রণ প্রবণ ত্বক

ব্রণ প্রবণ ত্বক

ব্রণ প্রবণ ত্বক যে সবসময় তেলতেলে হয়, তা নয়। এটি শুষ্ক হতে পারে, ডিহাইড্রেটেড হতে পারে, কম্বিনেশন, এমনকী স্বাভাবিকও হতে পারে। তাই ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য সঠিক প্রডাক্ট বেছে নেওয়া মুশকিল, কারণ ঠিক কী কারণে ব্রণ বেরোবে তা আপনি নিজেও জানেন না।

তাই ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য আমাদের পছন্দ ল্যাকমে নাইন টু ফাইভ ভিটামিন সি+ফেস সিরাম উইথ 100% রিয়েল কাকাডু প্লাম এক্সট্র্যাক্ট ফর নারিশড স্কিন/ Lakmé 9 to 5 Vitamin C+ Face Serum with 100% Real Kakadu Plum Extract For Nourished Skin। ভিটামিন সি ত্বকে দ্রুত শুষে যায় এবং ত্বকের জলীয় উপাদান বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ কোষের জন্ম ত্বরান্বিত করে। এই সিরাম ব্রণর কারণে ত্বকের নির্জীবভাব আর ক্লান্তি দূর করে।

 

 

স্পর্শকাতর ত্বক

স্পর্শকাতর ত্বক

শুষ্ক আর ডিহাইড্রেটেড ত্বক যেমন গুলিয়ে যায়, তেমনি স্পর্শকাতর আর ব্রণ প্রবণ ত্বকের মধ্যেও গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। স্পর্শকাতর বা সেনসিটিভ ত্বক মানেই ব্রণ হওয়া নয়। ভুল জিনিসের সংস্পর্শে এলে সেনসিটিভ ত্বকে র‍্যাশ বেরোতে পারে, জ্বালা করতে পারে, চুলকোতে পারে, ত্বক লাল হয়েও যেতে পারে। 

সিম্পল বুস্টার সিরাম - 10% হেম্প সিড অয়েল+বিথ্রি/ Simple Booster Serum - 10% Hemp Seed Oil + B3 স্পর্শকাতর ত্বকে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আদর্শ! হেম্প সিড অয়েল আর বিথ্রি ত্বকের প্রতিরোধব্যবস্থা আর রোগ আটকানোর ক্ষমতা জোরদার করে। এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডান্ট আর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি অর্থাৎ প্রদাহ রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যা ত্বক শীতল আর স্নিগ্ধ করে। ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্যও এটি খুব কার্যকর সিরাম।