আপনাদের মধ্যে যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে সংবেদনশীল ত্বক খুব তাড়াতাড়ি নানা ধরনের অস্বস্তির শিকার হয় | আপনারা এও নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে কিছু কিছু বস্তু  আছে যেগুলি ব্যবহারের কারণে আপনাদের ত্বক হয়ে ওঠে লালচে,  তাতে  প্রদাহ বা চুলকানি দেখা দেয় , এমনকি ত্বক সংক্রামিতও হয়ে  যেতে পারে | কিছু কিছু শারীরিক অবস্থা বা বিশেষ রোগের কারণেও অবশ্য ত্বক সংবেদনশীল হতে পারে |

এই সমস্যা বুঝতে গেলে এবং এর সমাধান পেতে গেলে  সবচেয়ে ভালো হল আপনার ত্বক-বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া | যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল হয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত | কিছু কিছু উপসর্গ বা চিহ্ন বর্ণনা করা হল, যেগুলি পরখ করে নিলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ত্বকের বিশেষ বাড়তি যত্নের প্রয়োজন আছে কি না |
১. ত্বকে চুলকানি বা ফুসকুড়ি হওয়ার প্রবণতা
 

১. ত্বকে চুলকানি বা ফুসকুড়ি হওয়ার প্রবণতা

যদি আপনার ত্বকে প্রায়ই খুব  ছোট ছোট লালচে ফুসকুড়ি এবং চুলকানি হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার ত্বক অবশ্যই সংবেদনশীল | এটি বিশেষভাবে এই কারণেই হতে পারে, যখন আপনার ত্বকে কিছু অবাঞ্ছিত বস্তু রয়ে যায় | চুলকানি অত্যন্ত অস্বস্তিকর বা খারাপ দেখতে হতে পারে | এমনও হতে পারে যে এগুলি সহজে নির্মূল হতেও চাইবে না | আপনার যদি কোনরকম অ্যালার্জি থেকে থাকে, তাহলে তো আরও সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন | কোনরকম মলম ব্যবহারের আগে অন্তত ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করা বাঞ্ছনীয় | যদি আপনার উপসর্গগুলি নতুন হয়, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করুন | চুলকানি বা ফুসকুড়ির থেকে দ্রুত আরাম পেতে আপনি নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন |

২. কামড় বা পোড়া
 

২. কামড় বা পোড়া

আপনি ময়শ্চারাইজার, ফাউণ্ডেশন বা সানস্ক্রিন... যাই ব্যবহার করুন না কেন , আপনার ত্বক যে  কোনো ভাবেই তার প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে আর হতেই পারে যে আপনার অভিজ্ঞতা তেমন সুখকর হল না | আপনাদের মধ্যে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ত্বক আসলে অপেক্ষাকৃত পাতলা, ফলে ত্বক ভেদ করে বিভিন্ন উপাদান খুব সহজেই ভেতরে প্রবেশ করে এবং  কিছু কামড়ানোর বা ফুটে যাওয়ার বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হয় | এই অনুভূতি বিশেষভাবে হয় জেলজাতীয় বস্তু ব্যবহার করলে, অর্থাৎ যে সব বস্তুতে অ্যালকোহল আছে | ব্রণ সারানোর ওষুধে বা অ্যান্টি-এজিং প্রসাধনীগুলির ক্ষেত্রেও ব্যবহারের পরে অনেক সময়ে  এমন অনুভূতি দেখা যায় | জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হয়ত সাময়িক, কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যেই এই অনুভূতি  অত্যন্ত অস্বস্তিকর, এমনকি বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে | এইরকম কোনও কিছু যদি ঘটে, সঙ্গে সঙ্গে খেয়াল করে ত্বক থেকে ব্যবহার করা বস্তুটির সবটুকু অস্তিত্ব নির্মূল করুন আর জায়গাটি ঠাণ্ডা জলে ভালো করে ধুয়ে নিন |

৩. চুলকানিযুক্ত ত্বক
 

৩. চুলকানিযুক্ত ত্বক

ত্বকে  চুলকানি থাকলে বা অতিরিক্ত  টান ধরার প্রবণতা থাকলে দেখা যায় যে অনেক ক্ষেত্রেই এটির কারণ হল অতিরিক্ত পরিমাণে গরম জলের ব্যবহার | এটি আরোই হয়, যখন আমরা পরিচ্ছন্ন ত্বক পাওয়ার জন্য এমন সব বস্তু ব্যবহার করি, যাদের মধ্যে কড়া কড়া উপাদান আছে | খেয়াল করে দেখবেন, বাতাস ঠাণ্ডা আর শুষ্ক থাকলে চুলকানি কিন্তু কমছে না | যত চুলকাবেন, ততই অস্বস্তি বাড়বে , এমনকি ত্বকে সংক্রমণও হতে পারে | কীভাবে চুলকানির হাত থেকে মুক্তি পাবেন, তা জানতে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন | যদি নিয়মিতভাবে গরম জল ব্যবহারের অভ্যেস থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহার করুন আর নিশ্চিত হয়ে নিন যে পরিচ্ছন্নতার জন্য যা যা আপনি ব্যবহার করছেন , সেগুলি আপনার ত্বকের পক্ষে উপযুক্ত কি না  |

৪ . লালচে ভাব
 

৪ . লালচে ভাব

সংবেদনশীল ত্বকের সবচেয়ে সাধারণ চিহ্ন হল লালচে ভাব | আপনাদের মধ্যে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, নিশ্চয়ই প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন |  এটি দেখতে খুব ছোট মাপের  লাল দানাদানা বা বড় মাপের  ফুসকুড়ির মতো হতে পারে অথবা চাপধরা গরম  লালচে  ভাব, এমনকি ছড়ানো লাল রক্তজালিকার মতোও হতে পারে |  যে কারণে আপনার ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিয়েছে, সেটি সামান্য  চিকিৎসার মাধ্যমে  নির্মূল করতে পারলে হয়ত আপনি এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন | এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন | লালচে ত্বক  খুব অবাধ্য আর জেদি ধরনের হলে আপনার হয়ত লেসার চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে |

৫ ত্বকে লালচে গোটা দেখা দেওয়া
 

৫ ত্বকে লালচে গোটা দেখা দেওয়া

আর্দ্রতার অভাব দূর করতে সংবেদনশীল ও শুষ্ক ত্বকের প্রবণতা আছে বাড়তি তেল তৈরির | এর ফলে কিন্তু ত্বকের ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে ত্বক লালচে গোটায় ভরে যায় | যদি এর হাত থেকে রেহাই পেতে অ্যাকনে ওয়াশ  বা ক্রিম ব্যবহারের চেষ্টা করেন, তাহলে কিন্তু হিতে বিপরীতও হতে পারে | একজন ত্বক- বিশেষজ্ঞই পারেন আপনাকে ঠিকঠাক সুপরামর্শ দিতে , যাতে আপনি ঠিকঠাক জিনিস ব্যবহার করে ত্বককে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন এবং ত্বকে কোনও প্রদাহ সৃষ্টি না হয় | দিনে দু-বারের বেশি মুখ ধোবেন না এবং তাও কোনও ভালো কোমল ধরনের ক্লীনজার ব্যবহার করে | যে সব বস্তুতে অ্যালকোহল আছে, সেগুলি এড়িয়ে চলাই ভালো |