সন্তান জন্ম দেওয়া নিঃসন্দেহে মেয়েদের জীবনে অন্যতম সুখের অনুভূতি। কিন্তু শরীর যখন নিজেকে শিশুর জন্য প্রস্তুত করে, তখন একই সঙ্গে বেশ কিছু সমস্যারও সূত্রপাত হয়। এই সময় একদিকে যেমন অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি পেঁপে বা আনারসের মতো ফল এড়িয়ে চলা উচিত, তেমনি শিশু জন্ম না নেওয়া পর্যন্ত বেশ কিছু স্কিনকেয়ার অভ্যেসকেও বিদায় জানানো দরকার। গর্ভাবস্থায় ত্বক পরিচর্যার কিছু উচিত ও অনুচিত কাজের তালিকা দিয়ে দিলাম আমরা। মেনে চললে সুস্থ থাকবে আপনার ত্বক।

 

উচিত:

উচিত:

সানস্ক্রিন মাখুন ত্

ক পরিচর্যার অন্যতম জরুরি অংশ হল সানস্ক্রিন, গর্ভাবস্থাতেও এটি বিশেষ প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় ত্বক রোদের ব্যাপারে অনেক বেশি স্পর্শকাতর হতে পারে, তাই ত্বকের উপযোগী সানস্ক্রিন মাখুন। তাতে একদিকে স্পর্শকাতরতা কমবে, অন্যদিকে মেলাসমা, কালো দাগছোপ, নিষ্প্রভ ত্বকের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সাধারণ ত্বক পরিচর্যার রুটিন মেনে চলুন যে সব প্রডাক্ট

সাধারণ ত্বক পরিচর্যার রুটিন মেনে চলুন যে সব প্রডাক্ট

আপনি ব্যবহার করেন, তা যেন আপনার পক্ষে স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক হয়, বিশেষ করে আপনার ত্বক যখন একাধিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রাথমিক ক্লেনজিং-টোনিং-ময়শ্চারাইজিংয়ের রুটিন মেনে চলাই ভালো। গর্ভাবস্থায় নিরাপদ এমন উপাদানই ব্যবহার করুন, যেমন গ্লাইকলিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড, এল অ্যাসরবিক অ্যাসিড, অ্যাজেলেক অ্যাসিড এবং হ্যালুরনিক অ্যাসিড। ময়শ্চারাইজিংয়ের জন্যও কোকো বাটার, শিয়া বাটার, জোজোবা অয়েল, অ্যাভোকাডো অয়েল, নারকেল তেল এবং রোজহিপ অয়েলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন।

ত্বক পরিচর্যার রুটিনে রাখুন ভিটামিন সি সিরাম

ত্বক পরিচর্যার রুটিনে রাখুন ভিটামিন সি সিরাম

ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডান্ট হিসেবে দারুণ এবং গর্ভাবস্থাতেও নিরাপদ। টিস্যু মেরামত, সুস্থতা এবং ত্বক স্বাস্থ্যবান ও উজ্জ্বল রাখে এই উপাদানটি। এর ফলে মেলাসমার কারণে তৈরি হাইপারপিগমেন্টেশন এবং কালো দাগছোপ কমে।

 

অনুচিত:

অনুচিত:

নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন

নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন করলে বড় হয়ে যাওয়া রোমছিদ্রের আকার কমে, কালো দাগছোপ হালকা হয়ে যায়। শুষ্ক ও মৃত কোষ পরিষ্কার করে এটি ময়শ্চারাইজারকে ত্বকের গভীরে ঢুকতে সাহায্য করে, ফলে স্ট্রেচ মার্ক হালকা হয়ে যায়। সেরা ফল পেতে সপ্তাহে একদিন আপনার পেট, বুক আর নিতম্ব এক্সফোলিয়েট করুন, আর মুখ করুন সপ্তাহে দু'বার।

কড়া উপাদানের ব্যবহার

কড়া উপাদানের ব্যবহার

সাধারণ ব্রণ কমানোর উপায় এবং অ্যান্টিএজিং ট্রিটমেন্টে থাকে রেটিনল, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, আইসোট্রেটিনয়েন, বেনজল পারক্সাইড এবং ক্লিন্ডামাইসিন। এই সবক'টি উপাদানই উপকারী, তবে শিশুর শরীরে পরবর্তীকালে জটিলতা এড়াতে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার না করাই ভালো। হ্যাঁ, রোজ ব্যবহার করলে তবেই ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, কিন্তু তার জন্য আর কেন অপেক্ষা করবেন?

ওয়াক্স

ওয়াক্স

গর্ভাবস্থায় ত্বক দু' থেকে তিনগুণ বেশি স্পর্শকাতর হয়ে যায়, ফলে ওয়াক্সিং করতে অনেক বেশি ব্যথা লাগে। তাই ত্বক থেকে অবাঞ্ছিত রোম তোলার অন্য উপায় বেছে নিন। কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হেয়ার রিমুভাল ক্রিম ব্যবহার না করে আস্থা রাখুন রেজরের ওপর। স্পর্শকাতর ত্বক প্রচণ্ড সেনসিটিভ হওয়ার দরুন হেয়ার রিমুভাল ক্রিম থেকে গর্ভাবস্থায় অ্যালার্জি বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে।

স্কিনকেয়ার রুটিনে ছেদ

স্কিনকেয়ার রুটিনে ছেদ

এই সময় জীবনের প্রতিটি ধাপে এত উচিত-অনুচিতের ব্যাপার থাকে যে হাঁফ ধরে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে কোনমতেই স্কিনকেয়ার রুটিনে ছেদ পড়তে দেবেন না। ত্বকের যাতে অপূরণীয় ক্ষতি না হয়ে যায় তার জন্য প্রাথমিক ত্বক পরিচর্যার রুটিন অনুসরণ করুন।

কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট

কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট

ব্রণ আর মেলাসমার হামলা ঠেকাতে কেমিক্যাল পিল করানোর ইচ্ছে হতেই পারে। তবে করাবেন না। বৈদ্যুতিক উপাদান রয়েছে এমন কোনও বিউটি ট্রিটমেন্ট বা ফেসিয়াল গর্ভাবস্থায় করানো উচিত না। কেমিক্যাল পিল, লেসার বা যে কোনও বিউটি সার্জারি এড়িয়ে চলুন।