সকাল শুরু করার সেরা উপায় হল এক পেয়ালা কড়া কফি আর মারকাটারি পোশাক | কিন্তু এ দুটো ব্যাপার যদি ঠিকঠাক সামলে নেওয়াও যায়, আয়নায় যখন চোখে পড়ে আপনার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে একটা পুঁজভরা ব্রণ, সমস্ত ভালো লাগাটুকু ফুসমন্তরে মিলিয়ে যায় |  আমরা যেহেতু এই অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত, তাই চেষ্টা করেছি ঘরোয়া কয়েকটি পদ্ধতি খুঁজেপেতে আপনাদের জানাতে, যাতে নিজে নিজেই ব্রণ নির্মূল করতে পারেন |


 
বেছে নিন অ্যালো ভেরা আর রসুন
 

বেছে নিন অ্যালো ভেরা আর রসুন

দু-কোয়া রসুন খোসা ছাড়িয়ে থেঁতো করে নিন | তাতে ১ চা চামচ টাটকা অ্যালো ভেরার শাঁস দিয়ে ভালো করে মেশান | মিশ্রণটি ব্রণর ওপরে লাগিয়ে মিনিট কুড়ি অপেক্ষা করুন | তারপর ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন | যতদিন ব্রণ নির্মূল না হচ্ছে, দিনে একবার করে এই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন |
রসুনে আছে  অ্যালিসিন নামের একটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সক্রিয় যৌগ | এটি যখন  অ্যালো ভেরার অ্যান্টি -অক্সিড্যান্ট ধর্মের সঙ্গে মিলেমিশে ব্রণর ওপরে কাজ করে, তখন সহজেই ব্রণ সেরে যায় |


 

পাকা কলার খোসাও কিন্তু ফেলনা নয়
 

পাকা কলার খোসাও কিন্তু ফেলনা নয়

কলা খেয়ে টপ করে খোসাটা ফেলে দেবেন না | আমরা জানি, কলায় আছে প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন আর খনিজ পদার্থ , যার অনেকটা অংশ থাকে খোসাতে | পাকা কলার খোসা থেকে ছোট একটি টুকরো কেটে নিয়ে ভেতরের সাদা অংশ ব্রণটির ওপরে লাগিয়ে হাল্কা হাতে মিনিট দশেক ঘষুন | তারপর মুখ ধুয়ে ফেলুন | দিনে দু-বার এমন করে দেখুন, দিন দুয়েকের মধ্যেই আপনি ব্রণর হাত থেকে রেহাই পাবেন |

দারচিনি আর মধু
 

দারচিনি আর মধু

যদি মনে মনে ভাবেন যে কীভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণর হাত থেকে মুক্তি পাবেন, তাহলে সাহায্য নিন নির্ভরযোগ্য দারচিনি আর মধুর | আধ চা চামচ দারচিনি বাটার সঙ্গে ২ টেবল চামচ মধু মিশিয়ে ঘন লেই তৈরি করে নিন | তারপর ত্বকের নির্দিষ্ট জায়গায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন | এবার ঈষদুষ্ণ জলে জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন এবং প্রতিদিন একবার এটি নিয়ম করে ব্যবহার করুন | দারচিনির অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ আর মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের দৌলতে শিগগিরই আপনার ব্রণ অদৃশ্য হয়ে যাবে |

বরফ ব্যবহার করুন
 

বরফ ব্যবহার করুন

ব্রণ থেকে রেহাই পাওয়ার একটি বিস্ময়কর অথচ ফলদায়ক উপাদান হল বরফ | এক খণ্ড বরফ সরাসরি মিনিট তিনেকের জন্য লাগিয়ে রাখুন ব্রণর ওপরে | বরফের তাপমাত্রা ত্বকের নীচের রক্তনালীগুলিকে সঙ্কুচিত করে দেবে এবং ব্রণটিকে আকারে তাই ছোট করে দিতে সাহায্য করবে | যতদিন না ব্রণটি একেবারে নির্মূল হচ্ছে, দিনে দু-বার করে বরফের টুকরো ব্যবহার করুন |

বেকিং সোডার বিকল্প নেই
 

বেকিং সোডার বিকল্প নেই

পরেরবার যখনই পুঁজভরা ব্রণ আপনাকে বিব্রত করবে, মনে রাখবেন বেকিং সোডা শুধু কিন্তু কেক বানাতেই লাগে না ! এটির আছে চমৎকার ক্ষমতা, যা মরা চামড়া তুলে ফেলে , তৈলাক্ত ত্বক থেকে তেল শুষে নেয়, ত্বকের pH-এর মাত্রা ঠিকঠাক বজায় রাখে আর জ্বালাযন্ত্রণা, চুলকানি কমায় | জল আর বেকিং সোডার লেই বানিয়ে তা সরাসরি ব্রণয় লাগিয়ে হাল্কা হাতে ঘষে ১০ মিনিট রেখে দিন | ভালভাবে তারপর ধুয়ে ফেলুন এবং একদিন অন্তর একদিন এই ঘরোয়া পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে ব্রণর হাত থেকে মুক্তি পান |