ঠাকুমা রোজ পইপই করে বলতেন, গরম জল খাও! আর এখন আপনার যোগব্যায়ামের ইনস্ট্রাক্টরও একই কথা বলেন! শুধু তাই নয়, বন্ধুদের কাছ থেকেও শুনেছেন গরম জল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো! কিন্তু শুধু এর ওর কাছ থেকে শোনা কথার উপরেই ভরসা করবেন, নাকি নিজেই অনুসন্ধান করে জেনে নেবেন গরম জল খাওয়ার উপকারিতা কী কী, যাতে নিজেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন গরম জল খেতে শুরু করবেন কিনা! 

আমাদের পরামর্শ হল, এই মুহূর্ত থেকে গরম জল খাওয়ার অভ্যেস গড়ে তুলুন কারণ এটি আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। জানি, আপনি বিশ্বাস করছেন না, তাই আপনার জন্য গরম জল খাওয়ার উপকারিতাগুলো আমরা সাজিয়ে দিলাম! এবার নিজেই দেখে নিন...

 

 

01. বয়সের দাগ কমায়

01. বয়সের দাগ কমায়

মুখে বয়সের দাগ পড়ুক, কোনও মেয়েই চান না। কাজেই যদি মুখে বয়সের ছাপ পড়া রুখতে চান, তা হলে আজ থেকেই গরম জল খেতে শুরু করুন। গরম জল খাওয়ার এ হেন উপকারিতা কি ছেড়ে দেওয়া যায়, বলুন! আসল কথা হল, শরীরে টক্সিক বা বিষাক্ত পদার্থ জমে যাওয়ার কারণে আমাদের বয়স্ক দেখায়। গরম জল শরীর থেকে সে সব বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে ত্বকের কোষগুলো মেরামত করে এবং কোষগুলোর নমনীয়তা বাড়িয়ে তোলে! তাই গরম জলপানের পুরো সুবিধে উসুল করুন, গরম জল খান, তারুণ্যে ভরপুর থাকুন!

 

02. রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া উন্নত করে

02. রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া উন্নত করে

গরম জল খেলে আপনার গায়ের রং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। গরম জল খাওয়ার উপকারিতা অনেক, আর এই উপকারিতাটি সরাসরি আপনার রূপলাবণ্য বাড়িয়ে তুলবে। গরম জল খেলে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট বেরিয়ে যায়, স্নায়ুতন্ত্রে জমে থাকা ফ্যাটও আর থাকে না। ফলে শরীরে জমে যাওয়া বিষাক্ত পদার্থও বেরিয়ে যায় এবং শরীরের রক্ত সংবহন ব্যবস্থাটি আরও উন্নত হয়ে ওঠে। রক্ত সংবহন ভাল হওয়ার কারণে আপনার গায়ের রঙেও উজ্জ্বলতা ফুটে বেরোয়। আমরা জানি, গরম জল খাওয়ার এই উপকারটির কথা জেনে আপনার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে!

 

03. ওজন কমানোর হাতিয়ার

03. ওজন কমানোর হাতিয়ার

ডায়েটিং করার অভ্যেস আছে? তা হলে তো সকালে খালি পেটে গরম জল খাওয়ার উপকারিতার কথা আপনার জানা! শরীরের ওজন কমাতে এই পদ্ধতিটি কার্যকর। গরম জল খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়া বা মেটাবলিজমের হারও বেড়ে যায়। মেটাবলিজমের হার বাড়লে ক্যালরি পোড়ে দ্রুত গতিতে। ফলে আপনার পরিপাক তন্ত্র আর কিডনি, দুইই খুব ভালোভাবে কাজ করতে শুরু করে। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরে জমা হওয়া ফ্রি র‍্যাডিক্যালসের পরিমাণ কমে আসে। শরীরের অ্যাডিপোজ টিস্যু অর্থাৎ মেদ ভেঙে দিতে লেবুর রস খুবই কার্যকর। তা ছাড়া লেবুর রসে পেকটিন ফাইবার থাকে, তাই গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে খিদের ভাবও কমে আসে। গরম জল খাওয়ার নানা উপকারিতার মধ্যে এই বিশেষ উপকারিতাটি আপনার খুবই কাজে লাগবে... তাই একদম দেরি করবেন না!

 

04. ব্যথা থেকে মুক্তি

04. ব্যথা থেকে মুক্তি

গরম জল খেলে ব্যথাবেদনা থেকে মুক্তি মেলে, এটি একটি পুরনো ঘরোয়া টোটকা। পিরিয়ডের ব্যথাই হোক বা মাথাব্যথা, যে কোনও ব্যথা কমাতেই গরম জল পান করতে পারেন। পেটের পেশির উপর গরম জল এমনভাবে প্রভাব ফেলে যাতে ক্র্যাম্প বা পেশির শক্তভাব কমে যায়। গরম জল পান করলে রক্ত সংবহনও বেড়ে যায় এবং শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো আরাম পায়। কাজেই গরম জল খাওয়ার উপকারিতা যদি হাতেনাতে পরখ করতে চান, তা হলে পিরিয়ডের সময় গরম জল খেয়ে দেখুন, ফল নিজেই বুঝতে পারবেন!

 

05. হজমের সহায়ক

05. হজমের সহায়ক

গরম জল খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু এই উপকারিতাটি বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকলে আপনিও সুস্থ থাকবেন এবং আপনি সুস্থ থাকলে তবেই তো বাড়বে আপনার সৌন্দর্য! আমরা আগেই বলেছি, সকালে এক গেলাস গরম জল পান করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বেরিয় যায়। জল এবং অন্য তরল পাকস্থলীতে জমে থাকা খাবার ভেঙে দেয় এবং পরিপাকতন্ত্রকে মসৃণ গতিতে কাজ করতে দেয়। গরম জল খেলে এই কাজটি আরও দ্রুত গতিতে হয়, ফলে খাবার ভালোভাবে হজম হতে পারে। ঠান্ডা জল খেলে খাবারের তেল বা ঘি শক্ত হয়ে যায় এবং তা ফ্যাট হয়ে পেটে জমতে থাকে। এই কারণেই খাবারের খনিজ পদার্থগুলিও শরীরে শোষিত হয় না। অন্যদিকে গরম জল খেলে (বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পর) হজম ভালো হয়।

 

06. কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

06. কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

পেটের এই সমস্যায় আমরা সকলেই কমবেশি ভুগেছি। কোষ্ঠকাঠিন্যে পেট ঠিক করে পরিষ্কার হয় না, অনেক জোর দিতে হয়। এ কথা পড়ে আপনার হাসি পেতে পারে, আপনি লজ্জা পেতে পারেন, কিন্তু কোষ্ঠের সমস্যাকে একদম অবহেলা করবেন না। গরম জল খাওয়ার উপকারিতা হল তা আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দিতে পারে। গরম জল পাকস্থলীর খাবারকে দ্রুত ভেঙে দেয়, ফলে হজম হয় সহজেই। বুঝতেই পারছেন, খাবার ঠিকমতো হজম হলে বর্জ্য অংশটি সহজেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, আর আপনি পান স্বস্তি দিনভর!

 

07. গরম জল খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

07. গরম জল খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

গরম জল পানের উপকারিতাগুলো তো জানলেন। কিন্তু খেতে শুরু করার আগে গরম জল খাওয়ার সঠিক পদ্ধতিটাও তো জানতে হবে, নাকি? গরম জল খাওয়ার সবক'টি স্বাস্থ্যকর লাভ যদি পেতে চান, তা হলে সকালে ঘুম থেকে উঠে হয় এক গেলাস এমনি গরম জল খান অথবা লেবু মিশিয়ে খান। মনে রাখবেন, জলটা যেন খুব গরম  না হয়, খাওয়ার মতো গরম করুন। অতিরিক্ত গরম জল খেলে মুখ, জিভ ও খাদ্যনালীর টিস্যু পুড়ে যেতে পারে, তাতে উপকারের চেয়ে অপকারটাই বেশি হবে।

মনে রাখবেন: আপনার যদি কোনওরকম ওষুধ খাওয়ার অভ্যেস থাকে, তা হলে গরম জল খেতে শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ ওষুধের কার্যকারিতার ওপর গরম জলের প্রভাব থাকতেও পারে।