দেশ জুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বাড়বৃদ্ধি ব্যহত হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এখনও। সংক্রমণ রুখে দেওয়ার দুটি উপায় হল, বাড়িতে থাকা আর সামাজিক তথা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। তৃতীয় যে উপায়টি রয়েছে, সেটা হল বারবার হাত ধোওয়া। ভাইরাস থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় এটিই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবী অনুযায়ী, ঘণ্টায় ঘণ্টায় অন্তত 20 সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুলে জীবাণু, ভাইরাস সমেত সমস্ত দূষিত পদার্থের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সারা দিনে এতবার করে হাত ধুলে হাতের চামড়া অত্যন্ত শুকনো হয়ে যেতে পারে, যা ডার্মাটাইটিস নামেও পরিচিত।

কিন্তু হাতের ত্বক শুকিয়ে যাওয়ার ভয়ে হাত না ধুলেও তো চলবে না! কাজেই এমন কিছু করতে হবে যাতে হাত পরিষ্কার থাকবে, ত্বকও শুষ্ক হবে না! এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম আমরা। কেন হাতের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় আর কীভাবে হাতের যত্ন নিতে হবে, তা জানালেন বিশেষজ্ঞেরা।

 

কড়া সাবানের ব্যবহার

কড়া সাবানের ব্যবহার

বেশিরভাগ হাতে মাখার সাবান আর স্যানিটাইজারে ক্ষার থাকে। এ সব জিনিস অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে গিয়ে হাত শুকনো আর বিবর্ণ দেখায়। "এ থেকে ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে পড়তে পারে, ত্বকে একজিমা হতে পারে বা ত্বক অত্যন্ত শুকনো খসখসে হয়ে যেতে পারে," বলছেন ডার্মাটোলজিস্ট ডক্টর এ. কে. রাই।

 

ত্বকের স্বাভাবিক তেলের আস্তরণ নষ্ট হয়ে যাওয়া

ত্বকের স্বাভাবিক তেলের আস্তরণ নষ্ট হয়ে যাওয়া

বারবার হাত ধুলে ত্বকের লিপিড নষ্ট হয়ে যায়। স্কিন লিপিড হল ত্বকের স্বাভাবিক তেল যা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং বাইরের দূষিত পদার্থকে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করা থেকে রুখে দেয়।

স্কিন কনসেপ্টের ডক্টর গুঞ্জন গুপ্ত বলছেন, "স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সাবান আর স্যানিটাইজার কার্যকর হলেও বারবার হাত ধুলে ত্বক শুকনো হয়ে যায়, ত্বক চুলকোতে শুরু করে, ত্বকে আঁশ আঁশ মতো দাগ পড়ে যায়। ত্বকের স্বাভাবিক লিপিড নষ্ট হয়ে গেলে হাতে একজিমাও হতে পারে।

 

অতিরিক্ত ঘরের কাজ

অতিরিক্ত ঘরের কাজ

দেশ জুড়ে লকডাউন চলার ফলে বাড়িতে কাজের সহায়িকা আসতে পারছেন না, ফলে ঘরের সমস্ত কাজ নিজেকেই করে নিতে হচ্ছে। ঘর মোছা, বাসন মাজা, কাপড় কাচার কাজ প্রতিদিন করা মানে ডিটারজেন্ট আর ঘরোয়া ডিসইনফেকট্যান্টের সংস্পর্শে আসছে হাত। এর ফলেও হাতের ত্বকের ক্ষতি হচ্ছে। এ সব জিনিসে প্রচুর রাসায়নিক থাকে, যা ত্বক শুকিয়ে দেয়, ত্বকে লালচেভাব বা প্রদাহও হতে পারে।

এখন এই পরিস্থিতিতে যেহেতু ঘরের কাজ করা আর বারবার হাত ধোওয়া, দুটিই চালিয়ে যেতে হবে, তাই হাতের ক্ষতি এড়াতে মেনে চলুন কয়েকটি সাধারণ নিয়ম।

 

কোমল, ময়শ্চারাইজিং হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করুন

কোমল, ময়শ্চারাইজিং হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করুন

স্কিন লেসার ক্লিনিকের ডক্টর টি.এ. রানা বলছেন, "আমাদের হাতের ত্বক কড়া ডিটারজেন্টে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা থেকে পরে একজিমা আর অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস হতে পারে।" তাও কোমল আর ময়শ্চারাইজিং হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করাই ভালো, যেমন ডাভ ডিপলি নারিশিং হ্যান্ডওয়াশ/Dove Deeply Nourishing Hand Wash। এতে এক-চতুর্থাংশ ময়শ্চারাইজিং ক্রিম রয়েছে যা আপনার হাত সুরক্ষিত রাখে। এতে স্টেরিক অ্যাসিডও রয়েছে। স্টেরিক অ্যাসিড এক ধরনের লিপিড যা প্রাকৃতিকভাবে ত্বকে থাকে এবং ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় সাহায্য করে।

বিকল্প হিসেবে গ্লিসারিন সাবানও ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা আর সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক সুস্থ করে তুলতে গ্লিসারিন সাবান খুব কাজের।

 

হাত শুকনো করে মুছে রাখুন

হাত শুকনো করে মুছে রাখুন

তোয়ালে দিয়ে হাত ঘষে ঘষে মোছার অভ্যেস আছে? থাকলে এক্ষুনি কমান। তোয়ালেয় হাত কোমলভাবে চেপে মুছে নিন, ঘষবেন না। জোরে ঘষলে হাত খুব শুকনো হয়ে যায়, ত্বকেও প্রদাহ দেখা দেয় যা থেকে ত্বকে খড়ি ওঠে, চুলকানি দেখা দেয়।

 

ময়শ্চারাইজার মাখুন

ময়শ্চারাইজার মাখুন

হাত অল্প ভেজা অবস্থাতেই ঘন ময়শ্চারাইজিং ক্রিম মেখে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ডার্মাটোলজিস্ট ডক্টর কেতন শাহ। এতে হাতের আর্দ্রতা বজায় থাকবে, হাত শুকনো হবে না,

খড়িও উঠবে না। ভেসলিন ইনটেন্সিভ কেয়ার হেলদি হ্যান্ড স্ট্রঙ্গার নেলস হ্যান্ড ক্রিম/ Vaseline Intensive Care Healthy Hand Stronger Nails Hand Cream ব্যবহার করুন। এতে ভেসলিন জেলি রয়েছে, সঙ্গে রয়েছে গ্লিসারিন আর স্টেরিক অ্যাসিড যা হাত শুষ্ক হতে দেবে না, হাতের ত্বক আর্দ্র আর সুরক্ষিত রাখবে।

 

ঘরের কাজ করার সময় গ্লাভস পরুন

ঘরের কাজ করার সময় গ্লাভস পরুন

বাসন মাজা আর কাপড় কাচার সাবানের ডিটারজেন্ট আর ডিসইনফেকট্যান্ট ত্বকের ক্ষতি করে দেয়। তাই ত্বকের সঙ্গে এ সবের ছোঁয়া লাগতে না দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। বাসন মাজা বা ঘর মোছার সময় রবারের গ্লাভস পরুন। এটুকু সাবধানতা মেনে চললে আপনার হাত তো আর্দ্র থাকবেই, নখও ভেঙে উঠে যাবে না।