বাতাসে তাপমাত্রা যত কমতে থাকে, ততই ত্বকে টান ধরে, গা চুলকোতে থাকে, হাতে পায়ে খড়ি ওঠা শুরু হয়। শীতের এই শুষ্কভাব ঠেকাতে একমাত্র উপায়া সিরাম, ময়শ্চারাইজার, হ্যান্ড ক্রিম, ফুট ক্রিম, লিপ বামের মতো নানা উপকরণ। কিন্তু ত্বক ঠিকমতো মসৃণ, আর্দ্র, নরম রাখতে হলে শুধু বাইরে থেকে পরিচর্যাই যথেষ্ট নয়, খাবারের তালিকায় নজর দেওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার কারণ একটাই: আমরা যা খাই, তাই আমাদের চেহারায় প্রতিফলিত হয়।

আমাদের ত্বকের একটা প্রাকৃতিক সুরক্ষা বর্ম রয়েছে যা আর্দ্রতাকে ত্বকের গভীরে আটকে রাখে এবং পরিবেশের ক্ষতিকর উপাদানগুলোর হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে। কিন্তু দূষণ, সংক্রমণের রোগজীবাণু এবং চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া ত্বকের এই প্রাকৃতিক সুরক্ষার আস্তরণটিকে ভেঙে দিতে পারে, যার পরিণতি শুকনো খড়ি ওঠা ত্বক। সঠিক খাবার খেলে এই আস্তরণটিকে মজবুত করে তোলা সম্ভব। দেখে নিন ত্বক সুস্থ রাখার জন্য শীতের খাদ্যতালিকায় কী কী খাবার রাখবেন।

 

01. ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবার

01. ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবার

যে সব খাবারে ওমেগা-থ্রি রয়েছে, তা আপনার ত্বকের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে ত্বক আর্দ্র রাখে। স্যামন মাছ বা তিসি আপনার ত্বকের লিপিড বেরিয়ার মজবুত করে তুলতে দারুণ ভালো কাজ করে। যাঁদের মাছ পছন্দ নয়, তাঁরা ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। তবে খুন বেশি খাবেন না, তাতে বিষক্রিয়া হতে পারে।

 

02. কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার

02. কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার

খাবারে কোলাজেন আর প্রোটিনের অভাব ঘটলে ত্বক শুকিয়ে যায়। তাতে মুখে সূক্ষ্ম রেখা আর অকালবার্ধক্যের ছাপ পড়তে পারে। ত্বক সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন, বিশেষ করে শীতের দিনগুলোয়। মাংসের হাড়ের স্যুপ, লেবুজাতীয় ফল, ডিম, রসুনে কোলাজেন বর্ধক উপাদান রয়েছে।

 

03. উন্নতমানের ফ্যাট আর প্রোটিন

03. উন্নতমানের ফ্যাট আর প্রোটিন

শীতের দিনে ত্বকের সুরক্ষা বলয় মজবুত করার আর একটি উপাদান হল স্বাস্থ্যকর ফ্যাটজাতীয় খাবার খাওয়া। সূর্যমুখীর বীজ, আমন্ড, চিয়া সিডস, আখরোটের মতো বাদামজাতীয় খাবার থেকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাবেন। অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল, ইভনিং প্রিমরোজ অয়েল থেকেও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায়।

 

04. ভিটামিন এ

04. ভিটামিন এ

ত্বকের ইলাস্টিসিটি উন্নত করে এবং ফ্রি র‍্যাডিক্যালসের হামলা থেকে ত্বককে রক্ষা করে ভিটামিন এ, তাতে ত্বক নরম আর তরুণ থাকে। খাবারের তালিকায় রাখুন গাজর, রাঙালু, ব্রকোলি, স্কোয়াশের মতো সবজি। এ সব সবজি ত্বকের টিস্যু মেরামত করে এবং শীতের ত্বকের নিষ্প্রভভাব কমায়।

 

05. জল

05. জল

ঠিকই বুঝেছেন। জল সে অর্থে খাদ্য নয়, কিন্তু খাদ্যতালিকায় জলের স্থান সবার ওপরে। শরীর আর ত্বক আর্দ্র রাখতে জলের কোনও বিকল্প নেই। শীতের দিনে তেষ্টা কম পায়, ফলে জল খাওয়া কম হয়। ফলে শরীর জলশূন্য আর ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। ত্বক ভেতর থেকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল আর আর্দ্র রাখতে প্রতিদিন আট থেকে দশ গেলাস জল খান।