ত্বকের ঠিকমতো দেখভাল করাটা যদি আমাদের মতো আপনারও একটা অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে তো আপনি জানেনই, ত্বক পরিচর্যার প্রতিটি সামগ্রীতেই উপাদান খুব গুরুত্বপূর্ণ। আসলে কোন স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করে তার উপাদানের ওপর।

সঠিক উপাদান দিয়ে তৈরি ত্বক পরিচর্যার সম্ভার রাতারাতি আপনার ত্বকে এনে দিতে পারে এক অতুলনীয় জেল্লা। সমস্যা হল, দোকানে এতরকম জিনিস পাওয়া যায় যে তার মধ্যে থেকে সেরাটা খুঁজে নেওয়া বেশ কঠিন। আর তার জন্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি আমরা। রইল ত্বক পরিচর্যার 5টি দুর্দান্ত উপাদান যা ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে সর্বত্র! জেনে নিন আপনিও!

 

01. নিয়াসিনামাইড

01. নিয়াসিনামাইড

আপনার মুখের রোমছিদ্রের আয়তন যদি বড় হয়, ত্বক খসখসে অমসৃণ হয়, ত্বক অনুজ্জ্বল হয় বা মুখে সূক্ষ্ম রেখা বা বলিরেখা পড়তে শুরু করে, তা হলে এক্ষুনি আপনার দরকার নিয়াসিনামাইড। এটি একধরনের ভিটামিন বি থ্রি। জলে দ্রাব্য এই উপাদানটি আপনার ত্বক কোমল, নরম, উজ্জ্বল আর তরতাজা করে তোলে। অ্যান্টিঅক্সিডান্টে ভরপুর এই উপাদানটি ত্বকের নানা খুঁত যেমন কালো দাগ, সূক্ষ্ম রেখা, পিগমেন্টেশন সারিয়ে তুলে ত্বক করে তোলে উজ্জ্বল আর নিখুঁত।

 

02. অ্যাজলেক অ্যাসিড

02. অ্যাজলেক অ্যাসিড

সারাক্ষণ তেলতেলে, ব্রণয় ভরা, লাল হয়ে যাওয়া ত্বক নিয়ে জেরবার হচ্ছেন? বেছে নিন অ্যাজলেক অ্যাসিড। ব্রণ শুকিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ব্রণর দাগছোপ হালকা করা, ত্বকের লালচেভাব কমানো, এ সব কিছুই করতে পারে অ্যাজলেক অ্যাসিড। ফলে রোজকার ত্বক পরিচর্যার রুটিনে যোগ করে নিন এই উপাদানটি। এই অ্যাসিড কোমলভাবে আপনার ত্বক এক্সফোলিয়েট করে, বাড়তি সেবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখে, বন্ধ রোমছিদ্র খুলে দেয় এবং ব্রণ হতে দেয় না। আপনার ত্বক যদি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অসমান ধরনের হয়, তা হলে অ্যাজলেক অ্যাসিড-বেসড প্রডাক্ট ব্যবহার করুন, পরিষ্কার উজ্জ্বল ত্বক খুব তাড়াতাড়িই আপনার সঙ্গী হবে।

 

03. ইলেকট্রোলাইটস

03. ইলেকট্রোলাইটস

মুখ সারাক্ষণ শুকনো, বিবর্ণ আর নিষ্প্রভ দেখানোর অর্থ হল ত্বকের আর্দ্রতা দরকার। আপনার রোজকার ব্যবহার্য ময়শ্চারাইজার দিয়ে যদি সে প্রয়োজন না মেটে, তা হলে এক্ষুনি স্কিনকেয়ার রুটিনে যোগ করুন ইলেকট্রোলাইট-বেসড স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট। জলের সঙ্গে মিশে এই উপাদানটি বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে ওঠে এবং ত্বকের আর্দ্রতার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইলেকট্রোলাইট আপনার শরীরের প্রাকৃতিক তরলের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিদ্যুৎ তরঙ্গের সৃষ্টি করে যা ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা আর পুষ্টি পৌঁছে দেয়, ফলে ত্বক সারাক্ষণ নরম আর আর্দ্র থাকে।

 

04. রেটিনল

04. রেটিনল

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বক আর্দ্রতা হারায়, বিবর্ণ হতে শুরু করে, সূক্ষ্ম রেখা আর বলিরেখার আনাগোনা শুরু হয়। বয়সের গতি থামানো যাবে না, কিন্তু বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াটা নিশ্চিতভাবেই রুখে দেওয়া সম্ভব। প্রতিদিনের ত্বক পরিচর্যার রুটিনে রাখুন রেটিনল-বেসড প্রডাক্ট। এই উপাদানটি নতুন কোষ জন্মানোর হার বাড়িয়ে তুলে আপনার ত্বক রাখে তুলতুলে নরম, তরতাজা আর মসৃণ। ত্বক কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হয়ে ওঠে প্রাণোচ্ছ্বল, তারুণ্যে ভরপুর!

 

05. গ্লাইকোলিক অ্যাসিড

05. গ্লাইকোলিক অ্যাসিড

গ্লাইকোলিক অ্যাসিড একধরনের এক্সফোলিয়েটিং উপাদান যা ত্বকের জমে থাকা মৃত কোষ পরিষ্কার করে দেয়। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড টোনার বা ক্লেনজার পরিষ্কার ঝলমলে ত্বক পেতে সাহায্য করে। এই উপাদানটির আণবিক ওজন কম হওয়ার দরুন এটি ত্বকের গভীরে সহজেই ঢুকে যায় এবং দ্রুত কাজ করে। যাঁদের ত্বক খসখসে, নিষ্প্রভ ধরনের, তাঁরা গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যুক্ত স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করে দেখুন। এমন সুপরামর্শ দেওয়ার জন্য অচিরেই আমাদের ধন্যবাদ দেবেন!

ফোটো সৌজন্য: ইনস্টাগ্রাম