চুলের সমস্যা যেমন একরকমের হয় না, তার কারণগুলোও হয় নানাধরনের। কখনও কেমিক্যালে ভরা শ্যাম্পু-কন্ডিশনার, কখনও হিট স্টাইলিং বা হেয়ার ট্রিটমেন্ট, কখনও আবার দূষণ, সব মিলিয়ে চুলের একাধিক সমস্যা লেগেই থাকে সারা বছর। চুলের ঠিকমতো যত্ন না নিলেও সমস্যা বাড়ে, চুল দুর্বল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, নিষ্প্রাণ দেখায়। চুলে স্বাস্থ্য ফেরানোর উপায় হল কেমিক্যালমুক্ত হেয়ার কেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করা আর তার জন্য আয়ুর্বেদের পথ অবলম্বন করাই সবচেয়ে ভালো। কারণ আয়ুর্বেদেই রয়েছে আপনার যাবতীয় চুল সংক্রান্ত সমস্যার উত্তর।

আয়ুর্বেদের প্রাকৃতিক উপাদান আপনার চুলের স্বাস্থ্যে নজরকাড়া পরিবর্তন ঘটাতে পারে। রইল তেমনই পাঁচটি উপাদান যা চুল সুস্থ রাখতে সিদ্ধহস্ত!

 

01. আমলা

01. আমলা

আমলা বা আমলকি হল ভিটামিন সি-এর ভাঁড়ার। এ ছাড়াও তা নানাভাবে শরীর ভালো রাখে। কিন্তু জানেন কি, আমলকি মাখলে চুলের গোড়া মজবুত হয়, চুলে বাড়তি চমক লাগে। আমলকির তেল মাথায় মাখলে চুলের গোড়া মজবুত হয়, চুলের অকালপক্বতা কমে, চুল লম্বাও হয় তাড়াতাড়ি। আমলার এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড আর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট চুলের টেক্সচারও সুন্দর করে তুলতে পারে।

 

02. ভৃঙ্গরাজ

02. ভৃঙ্গরাজ

চুলের যত্নে যতরকম আয়ুর্বেদিক সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৃঙ্গরাজ। প্রতিদিন চুলের গোড়ায় ভৃঙ্গরাজ তেল মালিশ করলে চুল ঘন হয় আর লম্বাও হয় দ্রুত। যে সব মেয়ের চুল উঠছে বা চুল পাতলা হয়ে গেছে, তাঁরা ভৃঙ্গরাজ মাখলে উপকার পাবেন। গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত চুল সুস্থ সুন্দর রাখতে জুড়ি নেই ভৃঙ্গরাজের।

 

03. নিম

03. নিম

সবরকম রোগ কমানোর মহৌষধ যদি আয়ুর্বেদে থেকে থাকে, তা হল নিম। চুলের সমস্তরকম সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন নিমপাতা। এই কারণেই অনেক চুলের তেল আর শ্যাম্পুতে নিমের নির্যাস যোগ করা হয়। খুসকি, চুল ওঠা, চুলের শুষ্কতার মতো সাধারণ সমস্যাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নিমের ছত্রাকরোধী গুণ।

 

04. রোজমেরি

04. রোজমেরি

হেয়ার কেয়ার প্রডাক্টে উপাদান হিসেবে রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করার রেওয়াজ আজকাল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আয়ুর্বেদে কিন্তু বহু শতক ধরেই রোজমেরি ব্যবহার করা হয়। রোজমেরিতে কারনোসল নামে একটি প্রদাহরোধী উপাদান থাকে যা হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে চুল গোড়া থেকে মজবুত হয়ে ওঠে।

 

05. তিসি

05. তিসি

তিসির তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও প্রদাহ রুখে দেওয়ার গুণ রয়েছে। ফলে চুলে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি মাথা ঠান্ডা রাখতেও তিসির তেল খুব কাজের। জানেন কি, 90%-এরও বেশি আয়ুর্বেদিক ওষুধে বেস হিসেবে তিসির তেল ব্যবহার করা হয়? চুলের স্বাভাবিক জৌলুস ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে চুলের স্বাস্থ্য ভালো করতেও সাহায্য করে তিসির তেল।

যদি নিজের রোজকার ব্যবহার্য তেলের বদলে আয়ুর্বেদিক তেল মেখে চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে চান, তা হলে বেছে নিন লিভার আয়ুশ আয়ুর্বেদিক ভৃঙ্গরাজ হেয়ার অয়েল/Lever Ayush Ayurvedic Bhringaraj Hair Oil। এই তেলে ওপরে বলা সবক'টি উপাদানই রয়েছে যা চুলের গোড়া মজবুত করে চুলে এনে দেয় স্বাস্থ্যের জৌলুস।