আপনার জীবনের বিশেষ একটা সময়ে, অর্থাৎ ওই ন’মাসে আপনার শরীর আর মনমেজাজের অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, আমরা আপনার গর্ভাবস্থা অর্থাৎ সন্তানধারণকালের কথাই বলছি। আপনার চুলের ক্ষেত্রেও চোখে পড়ার মতো কিছু বদল ঘটে, আর সেটি এমনই একটি পরিবর্তন, যা সব  আসন্নপ্রসবা মায়ের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ। আপনিও নিশ্চয়ই শুনেছেন, এই সময়ে অতিরিক্ত চুল উঠে যায় বা চুল বিশ্রীরকম শুকনো হয়ে যায়? ঠিকই শুনেছেন। কিন্তু এই চুলের সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব এবং তা প্রতিরোধ করারও উপায় আছে। এ বিষয়ে আপনি আমাদের উপরে ভরসা করতে পারেন। শুধু আমাদের পরামর্শগুলি মন দিয়ে মেনে চলুন, আমাদের কথামতো ওই বিশেষ সময়ে চুলের যত্ন নিন, আপনার সব কিছু ঠিক আগের মতোই থাকবে।

চুলে মালিশ বা মাসাজ করুন
 

চুলে মালিশ বা মাসাজ করুন

মাথায় আর চুলে গরম তেল দিয়ে ধীরে ধীরে মালিশ করলে একদিকে যেমন আরাম পাবেন, তেমনি চুলেরও উপকার হবে। গর্ভাবস্থায় চুলের যত্ন নিতে এই অভ্যাসটি সকলেই সুপারিশ করে থাকেন। তেল মাসাজ করলে বিবর্ণ, নিষ্প্রাণ চুল সহজেই চকচকে আর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। চুলের স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রক্ষা করার জন্যও এটি অত্যন্ত উপযোগী। আপনার পছন্দের তেলগুলি মিশিয়ে নিয়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত আধঘণ্টা ভালোভাবে মাথায় মালিশ করুন।

বেশি কায়দা বা ফ্যাশনের দিকে ঝুঁকবেন না
 

বেশি কায়দা বা ফ্যাশনের দিকে ঝুঁকবেন না

গর্ভাবস্থায় তাপ প্রয়োগ করে নানান কায়দায় চুলের স্টাইল না করাই ভালো । এমনিতেই এই সময় নানা কারণে আপনার চুল আর স্ক্যাল্প দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই তাপপ্রয়োগকারী যন্ত্র রোজ ব্যবহার করলে আপনার চুলের বড়ো ক্ষতি হতে পারে। খুব আঁটসাঁট করে চুল বাঁধবেন না, তাতে মাথায় আর চুলের ফলিকলগুলিতে টান পড়ে। এর ফলে চুলে জট পড়ে, চুল পড়ে যায়, ছিঁড়ে যায় বা গোড়া থেকে ভেঙে যায়।

মাইল্ড বা কোমল হেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করুন
 

মাইল্ড বা কোমল হেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করুন

নিজের চুলের ধরনটি চিনে নিন ভালোভাবে আর এমন হেয়ার প্রডাক্টস ব্যবহার করুন যেগুলি আপনার চুলের সমস্যার মোকাবিলা করতে সহায়তা করে, একেবারেই কড়া ধরনের নয় আর রাসায়নিক পদার্থবিহীন। হার্বাল বা ভেষজ তেল, অর্গ্যানিক বা জৈব রং, কোমল শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার এই গর্ভাবস্থায় আপনার পরম বন্ধু। প্রতিবার চুলে শ্যাম্পু করার আগে তেল মাখুন আর পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। ডাভ ডেইলি শাইন শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

সাবধানে চুল আঁচড়ান
 

সাবধানে চুল আঁচড়ান

সাবধানে চুল আঁচড়ানো খুব জরুরি, বিশেষ করে যদি আপনার চুল ভেজা থাকে। ভঙ্গুর আর অশক্ত চুলের ভিজে অবস্থায় ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা থাকে অনেক বেশি। চুল প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে নিয়ে মোটা দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। ধীরে ধীরে চুল আঁচড়াবেন আর বেশিক্ষণ আঁচড়াবেন না।

খাবারদাবারের দিকে নজর রাখুন
 

খাবারদাবারের দিকে নজর রাখুন

আপনার চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য এমন খাবার খান, যেগুলি প্রোটিন আর ক্যালসিয়ামে ভরপুর। বেশি করে আমন্ড আর সিডস খান। খাবারের তালিকায় মাছ, সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি আর ফল রাখুন। প্রচুর পরিমাণে জল আর ফলের রস পান করে শরীরে প্রয়োজনীয় জলের পরিমাণ ঠিকঠাক বজায় রাখুন।