যদি সত্যিই এমন কোনও জাদু-মিশ্রণ থেকে থাকে, যা আপনার চুলের সব রকম সমস্যা দূর করে এবং সেই সঙ্গে চুলের স্বাস্থ্যও আমূল বদলে দেয়, তাহলে কি আপনি তা এক্ষুনি ব্যবহার করবেন না? এই মিশ্রণটি নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করার আগে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া ভালো যে এটি কিন্তু কোনও সাধারণ  মিশ্রণ নয়। একটি বিশেষ ভেষজগুণবিশিষ্ট ফল। আমাদের সকলের চেনা আমলকি। এই আমলকি চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে নানানভাবে। চুল পড়া কমানো থেকে শুরু করে খুসকি প্রতিরোধ করা পর্যন্ত  বিভিন্ন সমস্যায় এই সুফলদায়ক উপাদানটি অত্যন্ত ভালোভাবে কাজ করতে পারে এবং সেই সঙ্গে নিষ্প্রাণ চুলে আনে উজ্জ্বলতা। এবার দেখুন কীভাবে ...

আমলকি বা আমলা তেল
 

আমলকি বা আমলা তেল

আপনি যদি আমলা তেল দিয়ে মাথার তালু এবং চুলের গোড়া ভালোভাবে মালিশ করেন, তা হলে চুলের ফলিকলগুলি মজবুত হবে আর চুল পড়া কমে যাবে। এতে রক্ত চলাচলের উন্নতি হবে, স্ক্যাল্পে প্রাণসঞ্চার হবে আর চুলের বাড়বৃদ্ধি ঘটবে। এটির অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ খুসকি আর চুলকানি থেকে স্ক্যাল্পকে রক্ষা করবে। ব্যবহার করার আগে তেল সামান্য গরম করে নেওয়া ভালো। সপ্তাহে দু’ দিন ব্যবহার করবেন।

আমলকি বা আমলা আর দই দিয়ে তৈরি হেয়ার মাস্ক
 

আমলকি বা আমলা আর দই দিয়ে তৈরি হেয়ার মাস্ক

চুল শক্তপোক্ত করার এই হেয়ার মাস্কটি আপনার চুলের স্বাস্থ্য আর সৌন্দর্য উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেবে। দু’ চা চামচ আমলা পাউডার নিয়ে তাতে সামান্য গরম জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার এতে মেশান এক চাচামচ মধু আর দু’ চাচামচ টক দই। ভালো করে সব উপকরণ মিশিয়ে নিয়ে চুলে মেখে নিন। 30 মিনিট রেখে হালকা গরম জল দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন।

আমলকি বা আমলা হেয়ার টনিক
 

আমলকি বা আমলা হেয়ার টনিক

চুলের গোড়ায় টাটকা আমলকির রস লাগালে কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় আর চুলের বাড়বৃদ্ধিও হয় চমৎকার। মিনিট পাঁচেক চুলের গোড়ায় এই রস দিয়ে মালিশ করে 10 মিনিটের মতো অপেক্ষা করুন। তারপর ভালো কোনও মোলায়েম শ্যাম্পু আর ঈষদুষ্ণ জলে চুল ধুয়ে ফেলুন।

আমলকি বা আমলা হেয়ার ওয়াশ
 

আমলকি বা আমলা হেয়ার ওয়াশ

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে অকালে চুল পেকে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। আমলকি বা আমলা একটি ভেষজ উপাদান, যার পাকা চুল কালো করার যেমন আশ্চর্য গুণ আছে, তেমনই ম্যাড়মেড়ে শুকনো চুলে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনারও ক্ষমতা আছে। কয়েক টুকরো আমলকি আর তার কিছুটা রস নিন, তাতে খানিকটা জল মিশিয়ে 30 মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন, যাতে কঠিন খণ্ডগুলো আলাদা হয়ে যায়। এবার এই মিশ্রণ দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।