ত্বকের ওপরে জমে যাওয়া মৃত কোষ যদি নিয়ম করে তুলে না ফেলেন, তা হলে ত্বক পরিচর্যার জন্য যা যা আপনি করেন তার কোনওটা থেকেই তেমন উপকার আপনি পাবেন না। ত্বক সুন্দর রাখতে হলে এক্সফোলিয়েশন করতেই হবে। তাতে ত্বক যে শুধু আরও ভালোভাবে স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট শুষে নিতে পারে তাই নয়, পাশাপাশি ত্বকের বন্ধ রোমছিদ্র খুলে যায়, ব্রণ কমে, লসিকাগ্রন্থিগুলোতে তরল জমে থাকতে পারে না, আর রক্ত সংবহন ভালো হয়। স্ক্রাব দিয়ে মুখ মাসাজ করলে মুখ যে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, তার পেছনে রয়েছে এই সব কারণ। যেহেতু শীত পড়ে গেছে, তাই আমাদের ত্বকের কোষগুলো স্বাভাবিকাবেই জলশূন্য হয়ে পড়ে, শুকিয়ে যায় এবং সময়ের চেয়ে আগে মরে যায়। তাই মুখে জমে থাকা এই মৃত কোষ তুলে ফেলা দরকার যাতে ময়শ্চারাইজার আর অন্যান্য হাইড্রেটিং প্রডাক্ট ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে, আর সুস্থ কোষের জন্ম হয়। জেনে নিন শীতকালে কীভাবে এক্সফোলিয়েট করবেন আপনার ত্বক।

 

01. এক্সফোলিয়েশনের ধরন

01. এক্সফোলিয়েশনের ধরন

মুখে মাত্রাতিরিক্ত এক্সফোলিয়েট করবেন না, তাতে চুলকানি, প্রদাহ, ছাল উঠে যাওয়ার মতো নানা অবাঞ্ছিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যে হেতু শীতে ত্বক এমনিতেই শুষ্ক হয়ে যায়, তাই এই সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। বিশেষজ্ঞেরা সপ্তাহে তিনবার এক্সফোলিয়েট করার পরামর্শ দেন - তবে আপনার ত্বক সেনসিটিভ হলে সপ্তাহে এক দু'বারের বেশি এক্সফোলিয়েট করবেন না।

দু'ধরনের এক্সফোলিয়েটর হয়: কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর আর মেকানিকাল এক্সফোলিয়েটর। প্রথমটির ফরমুলায় অ্যাসিড থাকে যা মৃত কোষ গলিয়ে দেয়। আর দ্বিতীয়টি স্ক্রাব, গ্র্যানিউলস, স্পঞ্জ, গ্লাভস বা ব্রাশ ব্যবহার করে ত্বক থেকে মৃত কোষ তুলে ফেলে। শীতকালে আমাদের পছন্দের মেকানিকাল এক্সফোলিয়েটর হল ল্যাকমে ব্লাশ অ্যান্ড গ্লো গ্রিন অ্যাপল এপ্রিকট জেল স্ক্রাব/ Lakme Blush & Glow Green Apple Apricot Gel Scrub। এপ্রিকট আর আপেলের নির্যাসে সমৃদ্ধ এই স্ক্রাবটি সবধরনের ত্বকের পক্ষে মানানসই এবং ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড কমানোর পাশাপাশি ত্বক থেকে সমস্ত অশুদ্ধ পদার্থ সাফ করে দেয়।

 

 

02. কীভাবে ত্বক এক্সফোলিয়েট করবেন

02. কীভাবে ত্বক এক্সফোলিয়েট করবেন

মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করার পর এক্সফোলিয়েট করতে শুরু করুন। শুষ্ক ত্বক হলে মেকানিকাল এক্সফোলিয়েটরের বদলে কোমল কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করতে পারেন। কারণ মেকানিকাল এক্সফোলিয়েটর আপনার ত্বকে প্রদাহ তৈরি করতে পারে, ত্বক সূক্ষ্মভাবে কেটেছড়েও যেতে পারে। গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন।

আপনার ত্বক সেনসিটিভ আর ব্রণবহুল হলে নিয়ম হল মেকানিকাল এক্সফোলিয়েটর থেকে দূরে থাকতে হবে এবং স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করতে হবে। এই অ্যাসিড ত্বকের ওপরে জমে থাকা মৃত কোষ সাফ করে দেয় এবং রোমছিদ্র থেকেও সব নোংরা পরিষ্কার করে দেয় যা ব্রণর কারণ। কিন্তু এই অ্যাসিডটি একটু বেশি কড়া। ত্বকে কোনও নতুন প্রডাক্ট লাগানোর আগে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন। আর একটু কোমল কিছু চাইলে ল্যাকটিক অ্যাসিডযুক্ত এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করতে পারেন। যদি দেখেন কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করে ত্বকে কালো দাগ দেখা দিচ্ছে, তা হলে ব্যবহার করা বন্ধ করে দিন। অনেক সময়ই এ সব এক্সফোলিয়েটর থেকে ত্বকে কালো দাগছোপ পড়ে।

আপনার ত্বক পুরু আর তেলতেলে হলে মেকানিকাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করা উচিত। এই পদ্ধতিতে স্ক্রাবিংয়ের মাধ্যমে ত্বকে জমে যাওয়া তেলের স্তর উঠিয়ে দেওয়া যায়। কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর যদি ব্যবহার করেন, তা হলে তার স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আপনার ত্বকের পক্ষে উপকারীই হবে, কারণ এটি রোমছিদ্রে জমে থাকা তেলময়লা বের করে দেয় এবং ত্বকের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।

মেকানিকাল বা কেমিক্যাল, যে ধরনের এক্সফোলিয়েটরই ব্যবহার করুন না কেন, মুখ অবশ্যই 30 সেকেন্ড বৃত্তাকারে মাসাজ করবেন। স্পঞ্জ বা ব্রাশ ব্যবহার করলে ছোট হালকা স্ট্রোকে মাসাজ করুন। কখনওই কড়াভাবে জোরে জোরে ত্বক স্ক্রাব করবেন না।

হালকা গরম জলে স্ক্রাব ধুয়ে ফেলুন। স্নানের সময় এক্সফোলিয়েট করাই সবচেয়ে ভালো। গরম জল রোমছিদ্র খুলে দেয়, ফলে জমে থাকা ময়লা ঘষে তুলে দেওয়া সহজ হয়। তবে মুখে কোনও ক্ষত থাকলে বা কেটে গেলে একদম স্ক্রাব করবেন না।