ভরাট ঠোঁট বা পাউট যদি নিখুঁত আয়ত্ত করতে পারেন, জানবেন সবচেয়ে প্রাথমিক সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তাতেই| যখন একবার তা আপনার নাগালে এসে যাবে, তখনই বা তার পরেই শুরু হবে আপনার জয়যাত্রা| আপনি যদি আমাদের সঙ্গে সহমত হন এবং মনে করে থাকেন যে এটি আয়ত্তে আনা জরুরি, তাহলে এই ৬টি সহজ ধাপ অনুসরণ করে নিজের চেহারায় আনুন সেই অনন্য আকর্ষণ !
ঠোঁট ভিজিয়ে নিন
 

ঠোঁট ভিজিয়ে নিন

ঠিকঠাক এই পাউট আয়ত্ত করতে গেলে যখন আপনি ঠোঁটে কোনও রং মাখছেন না, তখনও আপনাকে ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে| মনে করে প্রতি রাতে শুতে যাওয়ার আগে ঠোঁট আর্দ্র রাখুন| আমরা তো বলব, আপনি ঠোঁটে ভেসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ভালো করে তা মেখে নিন সারা ঠোঁটে| সারা রাত কেটে যাওয়ার পরে সকালে দেখবেন আপনার ঠোঁট কেমন নরম আর তুলতুলে হয়ে রয়েছে!

‘লাইনার’ প্রীতি
 

‘লাইনার’ প্রীতি

নিখুঁত পাউট পেতে চাইলে শুরু করুন এমন একটি লিপ লাইনার দিয়ে, যেটির রং ঠিক আপনার ঠোঁটের রঙের মতো| হালকা হাতে আপনার ঠোঁট বরাবর ব্যবহার করে ঠোঁটের সীমারেখা এঁকে নিন| উপরের ঠোঁটের মাঝখান থেকে, অর্থাৎ যেটিকে আমরা ‘কিউপিড’স বো’ বলি, সেখান থেকে শুরু করবেন না| ওই ‘V’ অক্ষরের মতো অংশটির ঠিক পরের থেকে রেখা টানতে শুরু করে চলে যান মুখের বাইরের কোণে| আমাদের মত হল, আপনি বেছে নিন ল্যাকমে 9 to 5 লিপ লাইনার, এবং ঠিক আপনার ঠোঁটের রঙের সঙ্গে শেড মিলিয়ে, যাতে ঠোঁটের সীমারেখা আঁকার কাজটি নিখুঁত হয়৷

‘কিউপিড’স বো’ কে চিহ্নিত করুন ‘X’ দিয়ে
 

‘কিউপিড’স বো’ কে চিহ্নিত করুন ‘X’ দিয়ে

যাতে নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনার লিপ লাইনারকে ঠিক প্রয়োজনমতোই ব্যবহার করতে পারছেন, চিহ্নিত করে নিন আপনার ঠোঁটের উচ্চতম বিন্দুর অবস্থান কোথায়| অর্থাৎ আপনার ‘কিউপিড’স বো’-কে চিহ্নিত করুন| এবার প্রথমে এক প্রান্তের বিন্দুর উপর থেকে নিচে থেকে একটি সামান্য হেলানো রেখা আঁকুন| উপরের  ঠোঁটের অন্য প্রান্তের বিন্দু থেকেও ঠিক অমন আর একটি রেখা আঁকুন| X-এর মতো দেখাবে অনেকটা| খেয়াল রাখবেন, এমন লিপ লাইনার ব্যবহার করবেন, যেটি আপনার লিপস্টিকের রঙের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়|

ঠোঁটের স্ট্রোবিং
 

ঠোঁটের স্ট্রোবিং

লিপ লাইনার ব্যবহার করে আপনার ‘কিউপিড’স বো-এর উপরের অর্ধেক অংশকে ‘V’ চিহ্নের মতো করে চিহ্নিত করে নিন৷ এই ‘V’-এর উপরে হাইলাইটার লাগান, যাতে আপনার ঠোঁট আরও পরিপূর্ণ দেখায়| আমরা বলব, আপনি আঙুলে করে তুলে নিন ল্যাকমে অ্যাবসোলিউট মুন-লিট হাইলাইটার আর সেটি লাগিয়ে নিন এই  ‘V’-এর মাঝের অংশে| এর পরের ধাপে ঠোঁটে রং ভরানোর আগে ভালোভাবে ঠোঁটের স্ট্রোবিং করে নিন|

ঠোঁটে রং দিন
 

ঠোঁটে রং দিন

এখন আপনার ঠোঁটের বাইরের রেখা আঁকা হয়ে গেছে| এবার ঠোঁটে পছন্দসই ম্যাট লিপস্টিক লাগানোর পালা|

নিখুঁত ‘পাউট’ আনার জন্য আমাদের মত হল, আপনি ল্যাকমে অ্যাবসোলিউট ম্যাট মেল্ট লিকুইড লিপ কালার থেকে বেছে নিন কোনও উজ্জ্বল শেড অথবা পছন্দ করে নিন ল্যাকমে 9 to 5 ন্যাচরাল ম্যাট স্টিক্স-এর সম্ভার থেকে কোনো গাঢ় রং| এবার ঠোঁটের মাঝখান থেকে বাইরের কোণ পর্যন্ত সমানভাবে রং লাগান, যতক্ষণ না আপনার ঠোঁট পুরোপুরি নিখুঁতভাবে রঙিন হয়ে উঠছে|

ঠোঁটের শোভা: উজ্জ্বল, ভরাট আর সরস ঠোঁট
 

ঠোঁটের শোভা: উজ্জ্বল, ভরাট আর সরস ঠোঁট

নিখুঁত পাউট প্রায় হয়ে এসেছে| গ্লসি লিপ কালার বা প্লাম্পার ব্যবহার করে ঠোঁটে আনুন ভরাট ভাব| লাইনার ব্যবহার করে আপনার ‘কিউপিড’স বো’-তে সেই যে ‘X’ চিহ্নটি এঁকেছিলেন, সেই চিহ্নটিই আপনাকে সাহায্য করবে আপনার নিচের ঠোঁটের ঠিক মধ্যবিন্দুটি খুঁজে নিতে| ‘X’-এর ঠিক সরাসরি নিচের বিন্দুটির অবস্থান যেখানে, সেটিই আপনার নিচের ঠোঁটের মধ্যবিন্দুও বটে৷ সেখানে একটু স্বচ্ছ গ্লস লাগিয়ে নিন| এবার দেখুন, আপনার ঠোঁট দুটি কেমন সুন্দর ভরাট হয়ে উঠেছে আর তেমনই চকচকে, পালিশ করা| 

আমরা ল্যাকমে অ্যাবসোলিউট গ্লস স্টাইলিস্ট-এর গুণমুগ্ধ, আর আমরা চাই আপনিও এর বিপুল সম্ভার থেকে একটি শেড বেছে নিন, আপনার ঠোঁটকে সরস আর ভরাট রূপ দেওয়ার জন্য|