বহু বছর ধরেই মেয়েদের রূপচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল মুখে গরম জলের ভাপ নেওয়া বা স্টিমিং। ফেসিয়ালের সময়, মুখ পরিষ্কার করতে হলে, অথবা মুখে একটা আলগা লালচে দীপ্তি আনতে মুখ স্টিম করার কোনও বিকল্প নেই।

মুখে স্টিম নেওয়ার নানা বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে। গরম জলের গামলার ওপরে মুখ রেখে ভাপ নিলে মুখের রোমছিদ্র খুলে যায়, জমে থাকা ধুলোময়লাও বেরিয়ে আসে। ভাপ নেওয়ার সময় গরম জলের মধ্যে সামান্য লেবুর রস, নুন, শুকনো হার্ব বা পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন, আরও ভালো ফল পাবেন।  

ঠিক পদ্ধতিতে মুখ স্টিম করছেন কিনা জানতে চান? রইল স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড!

ধাপ 01: বড় বাটি বা সসপ্যানে জল ভরে নিন, তারপর আঁচে বসিয়ে ফোটান।
ধাপ 02: জল আঁচে বসিয়ে সেই অবসরে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন, যাতে কোনওরকম ধুলোময়লা, মেকআপ বা নোংরা লেগে না থাকে।
ধাপ 03: জল ফুটতে শুরু করলে আঁচ থেকে নামিয়ে নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা পছন্দের এসেনশিয়াল অয়েল মেশান। অল্প গ্রিন টি বা কয়েকটা পুদিনা পাতাও জলে ফেলে দিতে পারেন।
ধাপ 04: মাথা আর গরম জলের পাত্রটা একটা মোটা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে নিন, যাতে স্টিম বাইরে বেরিয়ে না যায়। মুখ সাবধানে পাত্রের কাছে নিয়ে আসুন, তারপর মিনিট দশেক ভাপ নিন।

এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে মুখ স্টিম করার উপকারিতা সবচেয়ে বেশি পাবেন, তাও আবার বাড়ির নিরাপদ ঘেরাটোপে বসেই, যখন খুশি, যেমন খুশি! দেখে নেওয়া যাক মুখ স্টিম করার উপকারিতা কী কী!

 

 

ত্বক পরিষ্কার করে

ত্বক পরিষ্কার করে

মুখ স্টিম করার উপকারিতার মধ্যে অন্যতম হল এই পদ্ধতিতে আপনার মুখের রোমছিদ্রগুলো খুলে যাত এবং ভেতরে জমে থাকা ধুলোময়লা, তেল আর ঘাম বেরিয়ে গিয়ে ত্বক একটা ডিপ ক্লেনজিংয়ের মতো গল পায়। স্টিমিংয়ের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল ঠিকমতো চলাচল করতে পারে, ফলে ব্রণ বা বিল্ড-আপের ভয় থাকে না। এবং আমরা সকলেই জানি, পরিষ্কার রোমছিদ্র/ clear pores মানেই কম ব্রণ আর ব্রেকআউট/acne and breakouts, তাই না? দারুণ ব্যাপার কিনা বলুন?!

 

ব্ল্যাকহেডস থেকে মুক্তি

ব্ল্যাকহেডস থেকে মুক্তি

নিয়মিত মুখ স্টিম করার উপকারিতার মধ্যে আর একটি হল, এই পদ্ধতিতে ব্ল্যাকহেডস আর হোয়াইটহেডস থেকে মুক্তি/ get rid of blackheads and whiteheads পাওয়া যায় কার্যকরীভাবে, কোনও টাকাপয়সা খরচ না করেই। মুখে অনেকদিন ধরে ব্ল্যাকহেডস আর হোয়াইটহেডস হয়ে থাকলে একটা সময় ব্যথা হতে শুরু করে। মুখে স্টিম নিলে রোমছিদ্রগুলো খুলে যায়, ভেতরে জমে থাকা ধুলোময়লাও আলগা হয়ে বেরিয়ে আসে, মুখ হয়ে ওঠে ঝকঝকে পরিষ্কার। ফলে ব্ল্যাকহেডস আর থাকে না , আপনার মুখে আসে এক মসৃণ, স্বচ্ছ আর উজ্জ্বল ভাব/ clear and glowing appearance

 

রক্তসংবহন উন্নত করে

রক্তসংবহন উন্নত করে

মাঝেমাঝে যথাযথ ত্বকপরিচর্যার রুটিন/ skincare routine মেনে চলা সত্ত্বেও আপনার ত্বক নিষ্প্রভ আর শুষ্ক দেখায়। এর মূল কারণ ত্বকের ওই অংশে ঠিকমতো রক্তসংবহন না হওয়া। এরকম সমস্যায় মুখে স্টিম নিলে ত্বকের খুব উপকার হয়। স্টিম মুখের রোমছিদ্র খুলে দেয়, ঘাম হওয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তবাহী শিরাগুলো প্রসারিত হয়ে ওঠে এবং বেশি করে রক্ত সংবহন করে, অক্সিজেন পৌঁছে দেয়, ফলে আপনার ত্বক হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যবান, তারুণ্যে ভরপুর!

 

মৃত কোষ দূর করে

মৃত কোষ দূর করে

মুখে স্টিম নেওয়ার একটা মূল উপকারিতা হল এটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের মৃত কোষ দূর করে/ eliminate dead skin cells ভেতরের তরতাজা উজ্জ্বল ত্বক বের করে আনে। মুখে মৃত কোষ জমে থাকলে মুখ বিবর্ণ, ক্লান্ত আর শুকনো দেখায়, এবং একসময়ে মুখে সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা এবং অন্যান্য বয়সের ছাপ/ signs of ageing দেখা যায়। নিয়মিত মুখে স্টিম করা হলে তা কোমল এক্সফোলিয়েটরের মতো কাজ করে, এই পদ্ধতির প্রাকৃতিক অ্যান্টি-এজিং গুণ/ natural anti-ageing properties আপনার ত্বককে করে তোলে স্বাস্থ্যবান/ make your skin look healthy এবং তারুণ্যের জেল্লায় ভরপুর!

 

ফেস মাস্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে

ফেস মাস্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে

রোজকার ব্যবহার্য ফেস মাস্কের কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তুলতে চান? তা হলে ফেস মাস্কের সঙ্গে যোগ করুন মুখ স্টিমিংয়ের গুণ আর ফল পান হাতে হাতে! ফেস মাস্ক লাগানোর পর মুখে স্টিম নিলে মুখের রোমছিদ্র প্রসারিত হয়, বন্ধ রোমছিদ্র খুলে যায়,এবং ফেস মাস্ক/ face mask বিনা বাধায় ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। ফেস মাস্ক লাগানো অবস্থায় মুখে স্টিম নেওয়ার পর সবসময় ঠান্ডা জল দিয়ে ফেস মাস্ক ধুতে হবে এবং তারপর রোমছিদ্র সঙ্কুচিত করতে মুখে আর গলায় একটুকরো বরফ ঘষে নিতে হবে।

 

ব্রণ সারাতে সাহায্য করে, রুখে দেয় নতুন ব্রণ বেরোনো

ব্রণ সারাতে সাহায্য করে, রুখে দেয় নতুন ব্রণ বেরোনো

যে কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে হঠাৎ ব্রণ বেরোলে মন খারাপ লাগা স্বাভাবিক! মুখে স্টিম নেওয়ার একটি দুর্দান্ত উপকারিতা হল, এই পদ্ধতিতে আপনি নিরাপদে ব্রণর হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন, কোনও সংক্রমণ বা দাগও থাকে না। মুখে তিন থেকে চার মিনিট স্টিম নিন, আধ ঘণ্টা রাখুন, তারপর ব্রণর ওপর মিনিট পাঁচেক এক টুকরো বরফ ঘষে নিন। এতে ব্রণর ব্যথা কমবে, লালচেভাব কমবে/ reduce redness, এবং পুঁজ বেরিয়ে গিয়ে ত্বক সুস্থ হয়ে উঠবে।

 

মুখ থেকে সমস্ত মেকআপ তুলে দেয়

মুখ থেকে সমস্ত মেকআপ তুলে দেয়

আপনাকে কি রোজই মুখে মেকআপ করতে হয়? তা হলে সপ্তাহে অন্তত একদিন মুখে স্টিম নিন, তাতে রোমছিদ্রে জমে থাকা মেকআপ উঠে যাবে। স্টিম মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে এবং ত্বক রাখবে সংক্রমণমুক্ত।

 

মুখে স্টিম নেওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন আর তার উত্তর

মুখে স্টিম নেওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন আর তার উত্তর


1) মুখে রোজ স্টিম নেওয়া কি ভালো?
উত্তর: না, প্রতিদিন মুখে স্টিম নেওয়া উচিত নয়। যদিও মুখে স্টিম নেওয়ার একাধিক উপকারিতা রয়েছে, তবুও রোজ স্টিম নেওয়া উচিত নয় কারণ তাতে মুখের রোমছিদ্র ঠিকমতো বন্ধ হওয়ার সময় পাবে না, এবং ত্বকের ক্ষতি হবে। ফলে সেরা ফল পেতে সপ্তাহে একদিন 10 মিনিটের বেশি স্টিম নেবেন না।

2) মুখে স্টিম নেওয়ার পর কী করা উচিত?
উত্তর: স্টিম নেওয়ার পর সবসময় মুখে আর গলায় বরফ ঘষে নিন। তারপর ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং রোমছিদ্র সম্পূর্ণভাবে সংকুচিত করতে টোনার লাগিয়ে নিন। একদম শেষে ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে ময়শ্চারাইজার লাগান।

3) মুখে স্টিম নেওয়ার সময় কোন কোন এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা ভালো?
উত্তর: রোজমেরি/  rosemary, টি ট্রি/ tea tree, ইলাং-ইলাং-এর মতো এসেনশিয়াল অয়েল/ Essential oils গরম জলে মেশালে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। এই সব এসেনশিয়াল অয়েল আপনার ত্বকে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয় এবং ত্বক সুস্থ আর উজ্জ্বল রাখে। পাশাপাশি এসেনশিয়াল অয়েলের মনকাড়া মিষ্টি গন্ধ আপনাকে রাখে শান্ত আর তরতাজা।