ব্রণ, একজিমা, পিগমেন্টেশন, অকালে বয়সের দাগ, অথবা বড় হয়ে যাওয়া রোমছিদ্র! আমাদের প্রত্যেকেই এ সব সমস্যার কোনও একটা না একটায় ভুগতে থাকি। কখনও কখনও একাধিক সমস্যাও থাকে! আপনিও যদি একই দলে সামিল হয়ে থাকেন আর তার সমাধান পেতে ইচ্ছুক হন, তা হলে একদম ঠিক জায়গায় এসেছেন! আমরা বিশ্বাস করি, ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। আর আমরা ঠিক সেটাই করেছি!

সেলিব্রিটি ত্বক বিশেষজ্ঞ তথা ইসায়া এস্থেটিকসের প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর কিরণ লোহিয়ার সঙ্গে কথা বলেছিলাম আমরা। ব্রণ, একজিমা, বড় হয়ে যাওয়া রোমছিদ্র, পিগমেন্টেশন আর অকালে বয়সের দাগ - ত্বকের এই পাঁচটি সাধারণ সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের ত্বক পরিচর্যার একটি পূর্ণাঙ্গ রুটিন তৈরি করে দিয়েছেন ডক্টর লোহিয়া। আপনারও যদি এ সব সমস্যার কোনও একটি বা একাধিক থেকে থাকে, তা হলে চোখ বুলিয়ে নিন ত্বক বিশেষজ্ঞ-অনুমোদিত ত্বক পরিচর্যার রুটিনে, জেনে নিন কী কী খাবেন বা খাবেন না, আর কিছু জরুরি স্কিনকেয়ার টিপসের তালিকায়।

 

01. ব্রণ

01. ব্রণ

খাবারের তালিকা

  • চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন, বাদ দিন হাই গ্লাইসেমিক (যে সব খাবার রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা খুব দ্রুত বাড়িয়ে তোলে) খাবার। এ সব খাবার হরমোনের মাত্রা নষ্ট করে দেয়, শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে।
  • দুধজাত খাবার আর হোয়ে প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়াও চলবে না, কারণ এ থেকেও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

সকাল থেকে রাত ত্বক পরিচর্যার রুটিন

  • সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে নিন। পরিমাণমতো ফেস সিরাম লাগান, তারপর সানব্লক মেখে নিন। রাতে ক্লেনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে সিরাম আর ময়শ্চারাইজার লাগান।
  • ব্রণয় ভরা ত্বকের যত্নের টিপস দৈনন্দিন ত্বক পরিচর্যার রুটিনে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা বেনজল পারঅক্সাইড যুক্ত ক্লেনজার রাখুন।
  • মুখের ক্রিম বা লোশন কেনার সময় উপাদানে বেন্টোনাইট ক্লে আছে কিনা দেখে নিন। অল্প বা মাঝারি ব্রণর সমস্যায় ক্রিমের মধ্যে এএইচএ, জিঙ্ক গ্লুকোনেট আর রেটিনল বা রেটিনালডিহাইড উপাদান হিসেবে থাকা বাঞ্ছনীয়।
  • বারবার মুখ ধোবেন না। দিনে দু' থেকে তিনবারের বেশি মুখ ধোওয়া উচিত নয়, কারণ তাতে ত্বক শুষ্ক হয়ে গিয়ে তেল উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
  • চুলে স্টাইলিং পমেড বা ওয়াক্স ব্যবহার করবেন না, এ সব জিনিস থেকেও ব্রণ হতে পারে।
  • খুব বেশি ব্রণ হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
 

02. একজিমা

02. একজিমা

খাবারের তালিকা

  • প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর ফ্যাট আর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার খান
  • নারকেল তেল বা ঘি দিয়ে রান্না করুন।
  • ডেয়ারি আর গ্লুটেন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • কী কী খাবার থেকে একজিমা হচ্ছে তার একটা রেকর্ড রাখার চেষ্টা করুন।

সকাল থেকে রাত ত্বক পরিচর্যার রুটিন

দিনে দু'বার ভেজা ত্বকে একজিমা সারানোর জন্য তৈরি বডি লোশন মাখুন। লোশন মাখার পর তার ওপরে ভেসলিন বা যে কোনও ভালো প্রাকৃতিক তেল লাগিয়ে নিন। তিসির তেল বা নারকেল তেল লাগাতে পারেন।

  • একজিমার জন্য ত্বকের যত্নের টিপস
  • এমন ক্রিম ব্যবহার করুন যাতে সেরামাইড আর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে।

প্রচুর পরিমাণে ভেসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি মাখুন।

  • ফোম দেওয়া প্রডাক্ট এড়িয়ে চলুন। স্নান বা গা ধোওয়ার জন্য ক্লেনজিং অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
  • হালকা গরম জলে স্নান করুন, তবে পাঁচ মিনিটের বেশি স্নান করবেন না।
 

03. বড় হয়ে যাওয়া রোমছিদ্র

03. বড় হয়ে যাওয়া রোমছিদ্র

খাবারের তালিকা

  • ত্বকের রোমছিদ্র বড় হয়ে গেলে তা কমাতে সঠিক স্কিন কেয়ার ট্রিটমেন্ট দরকার। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, ডেয়ারি, গ্লুটেন আর চিনি দেওয়া খাবার এড়িয়ে চলুন। এ সব খাবার কোলাজেন নষ্ট করে দেয়, ব্রণও বেরোতে পারে।

সকাল থেকে রাত ত্বক পরিচর্যার রুটিন

দিনে দু'বার ফেসওয়াশ দিয়ে অবশ্যই মুখ ধুয়ে ফেলুন। দিনের বেলায় ক্লে-বেসড ময়শ্চারাইজার মাখুন, রাতের ত্বক পরিচর্যায় রাখুন রেটিনল।

  • বড় রোমছিদ্রের জন্য স্কিনকেয়ার টিপস
  • ত্বক বেশি ঘষবেন না।
  • স্যালিসাইলিক অ্যাসিড দেওয়া ক্লেনজার ব্যবহার করুন, রেটিনল দেওয়া ক্লে-বেসড লোশন লাগান। এতে কোলাজেনের পরিমাণ বাড়বে, রোমছিদ্র সঙ্কুচিত হয়ে আসবে।
 

04. পিগমেন্টেশন

04. পিগমেন্টেশন

খাবারের তালিকা

  • দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরা খাবার। আমলকি, কমলালেবু, জাম বা বেরি জাতীয় ফলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে।
  • খাবারে রাখুন পর্যাপ্ত পরিমাণে রঙিন শাকসবজি।
  • প্রচুর জল খান।

সকাল থেকে রাত ত্বক পরিচর্যার রুটিন

সকালে ভিটামিন সি ক্লেনজার ব্যবহার করুন, রাতে চাই আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড (এএইচএ) যুক্ত ক্লেনজার। রোজকার ত্বক পরিচর্যার রুটিনে এই দুটি জিনিস যোগ করা খুব দরকার। এ ছাড়া সকালে ভিটামিন সি যুক্ত সিরাম, ক্রিম বা লোশন মাখুন, আর তার সঙ্গে সানস্ক্রিন মেখে নিন।

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করার পর অ্যান্টি-পিগমেন্টেশন ক্রিম মাখুন, তারপর ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

পিগমেন্টেশনের জন্য স্কিনকেয়ার টিপস

  • পিগমেন্টেশন কমাতে কজিক অ্যাসিড, আলফা-অরবাটিন, রেটিনল, লাইকোরাইস নির্যাস, এএইচএ, অ্যাজেলেইক অ্যাসিড যুক্ত ক্রিম মাখুন। এই ক্রিম দিনে একবার, কি দু'বার মাখতে পারেন।
  • প্রতি চার ঘণ্টা অন্তর এসপিএফ 30 যুক্ত মিনারেল সানব্লক লাগিয়ে নিন।
  • রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে বাঁচানোর জন্য দিনে দু'বার করে পলিপোডিয়াম লিউকোটোমোস সাপ্লিমেন্ট, আর উজ্জ্বল ত্বকের জন্য গ্লুটাথিওন ও ভিটামিন সি যুক্ত সাপ্লিমেন্ট খান।
 

05. অকালে বয়সের দাগ

05. অকালে বয়সের দাগ

খাবারের তালিকা

  • গ্লাইকেশন কমানোর জন্য এবং কোলাজেনের ক্ষতি এড়াতে চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন বা একেবারে বন্ধ করে দিন।
  • প্রদাহ তৈরি করে এমন যে কোনও খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • প্রচুর জল খান।
  • মাঝেমধ্যে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অভ্যেস করুন।

সকাল থেকে রাত ত্বক পরিচর্যার রুটিন

  • সকাল বিকেল কোমল ক্লেনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দিনের বেলা ভিটামিন সি ও ফেরুলিক অ্যাসিড সিরাম মাখুন, রাতে মাখুন রেটিনল। তারপর হ্যালুরনিক অ্যাসিড যুক্ত প্লাম্পিং সিরাম আর পেপটাইড ক্রিম মেখে নিন।

অকালে বয়সের দাগ কমানোর স্কিনকেয়ার টিপস

  • শুধুমাত্র ফেনাহীন ক্লেনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।
  • অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আর অ্যান্টিএজিংয়ের উপকার পাওয়ার জন্য ফেরুলিক অ্যাসিড যুক্ত
  • ভিটামিন সি ক্রিম মাখুন। অবশ্য ফেরুলিক অ্যাসিড ছাড়া শুধু ভিটামিন সি ক্রিম মাখলেও চলবে।
  • রাতের ত্বক পরিচর্যার রুটিনে রাখুন রেটিনল, বাকুচিয়ল অথবা এএইচএ যুক্ত প্রডাক্ট।
  • অ্যান্টিএজিংয়ের সুবিধে পেতে পেপটাইড বেসড ক্রিম মাখতে পারেন।
  • প্রতিদিনের অ্যান্টিএজিং স্কিনকেয়ার রুটিনে হ্যালুরনিক অ্যাসিড আর স্টেম সেল উপাদানও থাকা দরকার। মুখের সূক্ষ্ম রেখা দূর করে ত্বক মসৃণ আর টানটান রাখে এ সব উপাদান।