হলিউডের নায়িকা ক্যামেরন ডায়াজের সঙ্গে পরিচয় আছে? পাক্কা 47 বছর বয়সেও ভদ্রমহিলা একই রকম আকর্ষণীয়। তার রহস্যটাও ফাঁস করেছেন তিনি নিজেই! এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন বলেছিলেন কুড়ির কোঠায় পড়ার পরেই তিনি নিজের যত্ন নেওয়া শুরু করেন। ক্যামেরনের মতে আপনি যত তাড়াতাড়ি ফিটনেসের দিকে নজর দেবেন, যত দ্রুত ত্বকের যত্ন নেওয়া শুরু করবেন, তত বেশিদিন আপনার তারুণ্য অটুট থাকবে। যেহেতু বয়স বাড়া আটকানো যাবে না কোনও মতেই, তাই বয়স বেড়ে যাওয়াকে ভয় না পেয়ে বরং বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে যথাসম্ভব পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ, তাতে বয়স বাড়লেও সুন্দর থাকা যায়। ফলে বুঝতেই পারছেন, ক্যামেরন পেশাদার ত্বক বিশেষজ্ঞ না হলেও তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় কিন্তু সত্যতা রয়েছে - যত তাড়াতাড়ি অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলতে শুরু করবেন, ততই ভালো কাজ দেবে!

আপনাদের কাছে ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট করার জন্য আমরা কথা বলেছিলাম একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। কখন আর কীভাবে অ্যান্টি-এজিং ত্বক পরিচর্যা শুরু করতে হবে সে ব্যাপারে তিনি আমাদের বিশদে জানিয়েছেন। বারকোউইটস হেয়ার অ্যান্ড স্কিন ক্লিনিকস/Berkowits Hair and Skin Clinics-এর ডার্মাটোলজিস্ট তথা মেডিক্যাল ডিরেক্টর, এমবিবিএস, এমডি, ডিপিডি (ইউকে), ডক্টর অনুপ্রিয়া গোয়েল/Anupriya Goel বলছেন, "বয়স নির্বিশেষে যাঁরা নিজেদের সুন্দর করে রাখতে চান, তাঁদের কাছে অ্যান্টি-এজিং একটা চিন্তার বিষয়। আজকাল সব বয়সের মানুষই এস্থেটিক ক্লিনিকে আসেন এবং যে সব প্রশ্ন সাধারণত তাঁরা করেন, তার মধ্যে অন্যতম হল, "অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার শুরু করার সঠিক বয়স কোনটা!"

 

অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার শুরু করার আদর্শ সময় কোনটা?

অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার শুরু করার আদর্শ সময় কোনটা?

ডক্টর গোয়েল বলছেন, "25 বছর বয়সের আগে আমাদের ত্বকে পর্যাপ্ত কোলাজেন আর ইলাস্টিন টিস্যু তৈরি হয়, ত্বকের ক্ষতিও কম হয়। তার পরে কিন্তু কোলাজেন আর ইলাস্টিনের পরিমাণ কমতে থাকে, ফলে সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা পড়া শুরু হয়। ফলে অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার শুরু করার আদর্শ বয়স হিসেবে 25 বছরকে ধরা যেতে পারে। মনে রাখবেন: 35 বছর বয়সের পরে কোলাজেন আর ইলাস্টিন তৈরির পরিমাণ আরও কমে যায়, ত্বকে কুঞ্চন পড়তে থাকে।" ফলে আপনার বয়স যদি 25 বছরের বেশি হয় আর এখনও অ্যান্টি-এজিং ত্বক পরিচর্যা শুরু না করে থাকেন, তা হলে আর দেরি না করে শুরু করে দিন!

dermatologist guide start anti ageing skincare routine

আদর্শ অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার রুটিন

মুখে শুকনোভাব, কালো দাগছোপ, বলিরেখা, কুঞ্চনের ছাপ প্রতিরোধ করতে রোজ দিনে এবং রাতে নিয়মিত ত্বক পরিচর্যার রুটিন মেনে চয়া উচিত। ডক্টর গোয়েল বলছেন:

ধাপ 01: ক্লেনজার! সকালে উঠে কোমল ক্লেনজার বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এমন ক্লেনজার ব্যবহার করবেন যাতে ত্বক থেকে আর্দ্রতা নষ্ট না হয়ে যায়।

ধাপ 02: সিরাম! ক্লেনজারের পর মুখে ভিটামিন সি সিরাম মেখে নিন, এতে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল জনিত ক্ষতি সামাল দিতে পারবেন।

ধাপ 03: ময়শ্চারাইজার+এসপিএফ! এর পরের ধাপে ময়শ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন! মুখে ময়শ্চারাইজার মাখার পর সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না! প্রতিদিন সানস্ক্রিন মাখুন, এমনকী বাড়িতে থাকলেও! অন্তত এসপিএফ 30 রয়েছে এমন সানস্ক্রিন মাখতে হবে। আঙুলের মাথার মাপ অনুযায়ী 2.5 ইউনিট মতো নিন, সারা মুখে আর গলায় ছোট ছোট ফোঁটায় লাগিয়ে মেখে নিন।

রাতের বেলায়...

"মোমের মতো মসৃণ, পালিশ করা ত্বক চাইলে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিয়মিত ত্বকের যত্ন করুন। মুখ ধুয়ে নিয়ে প্রথমে রেটিনল যুক্ত সিরাম মাখুন, তারপর এমন একটা ময়শ্চারাইজার মেখে নিন যাতে সেরামাইড, গ্লিসারিন আর হ্যালিউরনিক অ্যাসিড রয়েছে। এতে আর্দ্রতা ত্বকের গভীরেই আটকে থাকবে," বলছেন ডক্টর গোয়েল।

 

অ্যান্টি-এজিং ত্বক পরিচর্যার রুটিন শুরু করার বিশেষ টিপস

অ্যান্টি-এজিং ত্বক পরিচর্যার রুটিন শুরু করার বিশেষ টিপস

কীভাবে শুরু করবেন অ্যান্টি-এজিং ত্বক পরিচর্যার রুটিন? কিছু বিশেষ টিপস রয়েছে আমাদের কাছে। ডক্টর গোয়েলের পরামর্শ হল, "অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার শুরু করার প্রথম ধাপ হল ত্বক যতটা সম্ভব আর্দ্র রাখা।" অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার শুরু করার সময় এই প্রাথমিক চাহিদাটুকু পূরণ করার পর মেনে চলুন আরও কিছু নিয়ম:

  • আদর্শ অ্যান্টি-এজিং রুটিনে এমন উপাদান বা প্রডাক্ট থাকা চাই যা ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ বাড়ায়। প্রডাক্টে রেটিনয়েড, এএইচএ, হ্যালিউরনিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, গ্লুটাথিওন, পেপটাইড আর স্টেম সেলের নির্যাসের মতো অ্যান্টিঅক্সিডান্ট থাকতে হবে। এ সব উপাদান ত্বকের এক্সফোলিয়েশনে সাহায্য করে, ত্বক আর্দ্র রাখে, ত্বকের নতুন কোষ তৈরিতেও সাহায্য করে।
  • ত্বকে বয়সের দাগ দেখা দেওয়ার অন্যতম কারণ হল রোদ। তাই ত্বক তরুণ রাখতে অন্তত এসপিএফ 30 যুক্ত সানস্ক্রিন মাখাটা সবচেয়ে জরুরি।
  • ত্বকে কোলাজেন বাড়ানোর জন্য অনেক ট্রিটমেন্ট রয়েছে। ডাক্তারের সাহায্য নিয়ে নিয়মিত ব্যবধানে ক্লিনিকে গিয়ে ফোটো ফেসিয়াল, মাইক্রোডার্মাব্রেশন, কোলাজেন ইনডাকশন থেরাপি, পিআরপি ট্রিটমেন্ট করাতে হবে। তা হলে বয়স যতই বাড়ুক, আপনার ত্বক থাকবে একদম পরিপাটি, তারুণ্যে উজ্জ্বল!