ত্বকের নানা সমস্যার সঙ্গে আমরা পরিচিত। ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস, মুখের শুষ্কভাব, আরও কত কী! কিন্তু এ সব সমস্যা হবে কিনা তা নির্ভর করে একান্তই ত্বকের ধরন আর বাহ্যিক পরিস্থিতির ওপর, ফলে কোনও মেয়ের এ সব সমস্যা নাও হতে পারে। কিন্তু বয়স বেড়ে যাওয়া আর ত্বকের ওপর তার ছাপ পড়া এমনই একটা সমস্যা, যার হাত থেকে কারও নিস্তার নেই! তার ওপর পরিবেশগত নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া শুরু হতে পারে, তাই কুড়ির কোঠার মাঝামাঝিতে পা দেওয়ার পর থেকেই মেয়েদের অ্যান্টি-এজিং প্রডাক্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন ত্বক বিশেষজ্ঞেরা।

ত্বকের সঠিক যত্ন কীভাবে করা উচিত এবং কীভাবে বয়সজনিত দাগছোপের মোকাবিলা করা যায় জানতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম মুম্বইয়ের ত্বক বিশেষজ্ঞ তথা সৌন্দর্য চিকিৎসক ডক্টর পল্লবী সুলের সঙ্গে। পল্লবী আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন কিছু অত্যন্ত জরুরি অ্যান্টি-এজিং টিপস। বয়স যথাক্রমে 20, 30 বা 40-এর কোঠায় হলে ত্বকের পরিচর্যায় কী কী উপাদান ব্যবহার করবেন যাতে দূরে থাকে অকাল বয়সের দাগ, সে ব্যাপারেও পরামর্শ পাওয়া গেল তাঁর কাছ থেকে।

 

বয়স 20-র কোঠা: আদর্শ অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার

বয়স 20-র কোঠা: আদর্শ অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার

"আপনি যদি এখনও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা শুরু না করে থাকেন, তা হলে এক্ষুনি শুরু করে দিন। ত্বকের ফোটোএজিং, অর্থাৎ রোদের ক্ষতিজনিত বয়সের দাগ রুখতে সানস্ক্রিনই আপনার প্রথম হাতিয়ার। নিয়মমাফিক সানস্ক্রিন মেখেই রুখে দেওয়া যায় ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা আর বলিরেখা," বলছেন ডক্টর সুলে। ত্বকের কোলাজেন আর ইলাস্টিনের ক্ষয় যাতে রোধ করতে পারেন, সে জন্য বয়স কুড়ির কোঠায় থাকতে থাকতেই কিন্তু সানস্ক্রিন ছাড়াও কিছু বিশেষ উপাদানযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার করতে হবে। ডক্টর সুলে বলছেন, "যাঁদের বয়স কুড়ির কোঠায়, তাঁরা ভিটামিন সি যুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার করুন। ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে, ত্বক টানটান রাখে, ত্বকে এনে দেয় স্বাস্থ্যের জেল্লা।"

 

বয়স 30-এর কোঠা: আদর্শ অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার

বয়স 30-এর কোঠা: আদর্শ অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার

আপনার বয়স যত বাড়তে থাকে, শরীরে ততই কোলাজেন আর ইলাস্টিন তৈরির পরিমাণ কমতে শুরু করে। এ জন্য অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার রুটিনে একাধিক সক্রিয় উপাদান থাকা চাই যাতে বলিরেখা বা সূক্ষ্ম রেখা ঘেঁষতে না পারে। "কুড়ির কোঠায় ভিটামিন সি যুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার করার পর তিরিশের কোঠায় পৌঁছে রেটিনল বেসড প্রডাক্ট ব্যবহার করতে শুরু করুন। এই সময়ে ত্বকে মেচেতা পড়া আটকাতে নিয়াসিনামাইড বা কোজিক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টি পিগমেন্টেশন উপাদান ত্বক পরিচর্যার রুটিনে রাখতে হবে," বলছেন ডক্টর সুলে। এই উপাদানগুলি মাখা ছাড়াও দিনে অন্তত দু'বার মুখে ময়শ্চারাইজার লাগান, আর কয়েক ঘণ্টা অন্তর সানস্ক্রিন লাগানো মাস্ট!

 

বয়স 40-এর কোঠা: আদর্শ অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার

বয়স 40-এর কোঠা: আদর্শ অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ার

চল্লিশে পা দেওয়ার পর থেকে ত্বক ক্রমশ শুষ্ক হতে শুরু করে, বয়সের দাগগুলোও স্পষ্ট হতে থাকে। তবে তার জন্য ঘন ক্রিম বা সিরাম মাখবেন না, কারণ সে সব ত্বকের গভীরে সহজে প্রবেশ করতে পারে না। বরং হালকা, লাইটওয়েট প্রডাক্ট মাখুন। "রেটিনল বয়সের দাগ খুব কার্যকরীভাবে কমিয়ে দিতে পারে। রেটিনল ছাড়াও হ্যালিউরনিক অ্যাসিড-বেসড ময়শ্চারাইজার মাখুন, তা হলে ত্বক শুষ্ক হবে না। চল্লিশের পর স্কিন টাইটনিং ফেসিয়ালের মতো ক্লিনিকাল ট্রিটমেন্ট করারও দরকার হতে পারে," বলছেন ডক্টর সুলে।

মূল ফোটো: @saraalikhan95