মুখে ব্রণ বেরোতে যেমন একদম সময় লাগে না, তেমনি সে ব্রণ সারতে কিন্তু অনন্তকাল লেগে যায়! তার সঙ্গে যে সময়ে ব্রণ বেরোয়, ঠিক তখনই কেমন করে যেন একের পর এক জরুরি অনুষ্ঠান পড়ে, ফলে সাজগোজের বারোটা! আর অনুষ্ঠান যত গুরুত্বপূর্ণ হয়, ব্রণও যেন সারতে ততটাই সময় নেয়। কার সময় আছে বলুন তো ব্রণ নিজে নিজে সারার অপেক্ষা করে বসে থাকবে? ফলে চটপট ব্রণ সারানোর উপায় খুঁজে পাওয়া দরকার (ব্রণ খুঁটে তুলে দেওয়া কিন্তু নৈব নৈব চ)! কাজেই 'কী করে ব্রণ সারাবেন' এই মর্মে নিরন্তর খোঁজ চলতেই থাকে! আপনিও যদি সেই দলেই থাকেন, তা হলে এ লেখা আপনার জন্য!

কীভাবে ব্রণ সারাবেন বা কীভাবে রাতারাতি ব্রণ সারাবেন, এ প্রশ্নটাই সম্ভবত সবচেয়ে বেশিবার করা হয়। আর আমরা যেহেতু চটজলদি ফলাফলে বিশ্বাসী, তাই প্রযুক্তির এই রমরমার সময়ে আমরা কিছু ঝটপট আর ব্রণ কমানোর কার্যকরী উপায় খুঁজে পেয়ে গেছি! কিছু প্রাকৃতিক স্পট ট্রিটমেন্ট করে আপনি দ্রুত ব্রণ সারাতে পারবেন, ব্রণর কোনও চিহ্নও থাকবে না! এ সব উপাদানের সঙ্গে আপনারা খুব ভালোমতোই পরিচিত, কারণ এ সব উপাদান রয়েছে আপনার বাড়িতে বা রান্নাঘরে! আসুন দেখে নেওয়া যাক পাঁচটি প্রাকৃতিক স্পট ট্রিটমেন্ট আর জেনে নিন কীভাবে সে সব কাজে লাগিয়ে ঝটপট সারিয়ে ফেলবেন আপনার ব্রণ!

 

1. বরফ

1. বরফ

সবচেয়ে সহজে ব্রণ কমানোর উপায় /get rid of pimples হল কোল্ড কমপ্রেস। ঠিক শুনেছেন, ব্রণ কমানোর উপায় লুকিয়ে আছে আপনার ফ্রিজারে! ব্রণর ওপরে বরফ লাগালে / Applying ice on your pimple লালচেভাব আর প্রদাহ কমে, রাতারাতি ব্রণ ছোট হইয়ে যায়। তার সঙ্গে ব্যথাও কমে। লাল, রাগী দেখতে, ব্যথাযুক্ত ব্রণ হলে বরফই সবচেয়ে ভালো ওষুধ। তা ছাড়া এই পদ্ধতিতে কোনও জটিল ফেস প্যাক রেসিপি/ face pack recipe লাগে না, ফলে দ্রুত প্রয়োগ করা যায়। ফ্রিজ খুলে একটা আইস কিউব বের করে নিন। বরফের টুকরোটা পাতলা কাপড়ে মুড়ে মুখে লাগান। বরফ গলে না যাওয়া পর্যন্ত হালকা মাসাজ করুন। দিনে দু' থেকে তিনবার এই টোটকা লাগিয়ে দেখুন। ব্রণ দ্রুত শুকোবে, দাগও আবছা হয়ে আসবে।

 

2. নিম তেল

2. নিম তেল

নিম এমনই একটি ব্যাকটেরিয়া-রোধী ভেষজ যা শুধু ব্রণ সারায় না, বরং আপনাকে ঝকঝকে ত্বক পেতেও/get clear skin সাহায্য করে। নিম ব্যাকটেরিয়া নাশ করে, পাশাপাশি দাগছোপ, ছত্রাক সংক্রমণ/treating fungal infections সারিয়ে তোলে। ব্রণ কমাতে স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবে নিম তেল ব্যবহার করুন আর পেয়ে যান দাগছোপহীন পরিষ্কার ত্বক/spotless skin এক নিমেষে! মুখ ধুয়ে নিন, তারপর খাঁটি নিম তেল/undiluted neem oil ব্রণর ওপরে তুলো বা ড্রপারে করে লাগান। আধঘণ্টা রেখে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ শুকিয়ে যাবে, ব্যাকটেরিয়াও নষ্ট হবে, আর নিম তেলের কারণে সারা মুখে ব্রণ ছড়াবে না। স্বাভাবিকভাবেই আপনি পেয়ে যাবেন ব্রণমুক্ত আর স্বাস্থ্যে ভরপুর ত্বক/healthy skin।

 

3. অ্যালো ভেরা

3. অ্যালো ভেরা

ত্বক আর্দ্র করা, সুস্থ রাখা থেকে শুরু করে ত্বক থেকে বাড়তি তেল শুষে নেওয়া পর্যন্ত এমন কিছু নেই যা অ্যালো ভেরা করতে পারে না! কাজেই ব্রণ সারানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রয়েছে অ্যালো ভেরার। আপনার ত্বক ব্রণ প্রবণ/ acne-prone skin হলে বা মাঝেমাঝে ব্রণ বেরোলেও হাতের কাছে অবশ্যই রাখুন অ্যালো ভেরা জেল/aloe vera gel (গাছ থাকলে পাতা থেকে জেল বের করেও নিতে পারেন)। অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণে সমৃদ্ধ অ্যালো ভেরা জেল ব্রণ সারাতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়/ reduce the inflammation মাত্র একদিনের মধ্যে। মটরদানার পরিমাণ অ্যালো ভেরা জেল নিয়ে ব্রণর ওপরে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন, সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। জেল যাতে বালিশে লেগে উঠে না যায়, তার জন্য ব্রণর ওপরে অ্যালো ভেরা জেল লাগানোর পর এক টুকরো ছোট টিস্যু পেপার দিয়ে জায়গাটা ঢেকে দিন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, তারপর শুতে যান।

 

4. হলুদ

4. হলুদ

বহু শতক ধরে স্বচ্ছ উজ্জ্বল ত্বকের জন্য/ clear and glowing skin যে উপাদানটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তা হল হলুদ। মা ঠাকুমাদের জিজ্ঞেস করলে সুস্থ ত্বকের জন্য হলুদের উপকারিতা/ benefits of turmeric for healthy skin নিয়ে অসংখ্য তথ্য পাবেন! মুখের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর একাধিক ফেস প্যাকে হলুদ ব্যবহার করা হয়, তা ছাড়াও ব্রণ কমানোর স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবেও কাজ করে হলুদ। ব্রণ আর ব্রণর দাগ সারিয়ে আপনাকে দ্রুত ঝকঝকে ত্বক ফিরিয়ে দেয় হলুদ। তাই ব্রণর সমস্যা থাকলে হলুদ ব্রণ কমানোর কার্যকরী ঘরোয়া ওষুধ। লেবুর রস বা মধুর সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে ব্রণর ওপর প্যাকের মতো করে লাগান। তারপর ধুয়ে ফেলে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ব্রণ না শুকোনো পর্যন্ত এই টোটকা ব্যবহার করুন।

 

5. টি ট্রি অয়েল

5. টি ট্রি অয়েল

তেলতেলে ব্রণওলা ত্বকের কাছে টি ট্রি অয়েল দৈব ওষুধের মতো! ব্রণ কমানোর উপায় না খুঁজে বরং টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করুন, কারণ এই জিনিসটিই আপনি এতদিন ধরে খুঁজছিলেন। টি ট্রি অয়েল মুখের বাড়তি তেল শুষে নেয়, ব্রণর দাগ হালকা করে এবং রাতারাতি ব্রণ শুকোতেও সাহায্য করে। সে জন্যই হাতের কাছে অবশ্যই রাখুন টি ট্রি অয়েল। ব্রণ শুকোতে, লালচেভাব কমাতে/reduce redness ও রাতারাতি ব্রণর আকার ছোট করে ফেলতে টি ট্রি অয়েল স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবে কাজে লাগান। বাটিতে যে কোনও কেরিয়ার অয়েল নিন, তাতে দু' তিন ফোঁটা টি ট্রি অয়েল যোগ করুন। ভালো করে মিশিয়ে ব্রণর ওপরে লাগান। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ না কমা পর্যন্ত রোজ লাগান।

pimple spot treatment cures

প্রশ্নমালা:

1) প্র: বরফ কি ব্রণ কমাতে সাহায্য করে?

উ: ব্রণ কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হল কোল্ড কমপ্রেস। ব্রণর ওপরে সরাসরি বরফ লাগালে প্রদাহ কমে, ব্রণর আকার ছোট হয়ে যায়, ব্যথাও কমে। পাতলা কাপড়ে বরফ মুড়ে নিয়মিত ব্রণর ওপরে পাঁচ থেকে দশ মিনিট কমপ্রেস করুন।

2) প্র: রাতারাতি ব্রণ কমাব কীভাবে?

উ: যদি রাতারাতি ব্রণ কমাতে চাইলে ব্রণর ওপরে অল্প অ্যালো ভেরা জেল বা ডাইলিউট করা টি ট্রি অয়েল লাগিয়ে টিস্যু দিয়ে ঢেকে দিন, যাতে ঘুমোনোর সময় বালিশে লেগে উঠে না যায়। স্পট ট্রিটমেন্ট হিসেবে এটি খুব কার্যকর আর ব্রণ দ্রুত সারাতে সাহায্য করে।

3) প্র: ব্রণ সারানোর জন্য টুথপেস্ট কি ভালো?

উ: টুথপেস্ট যেহেতু ব্যাকটেরিয়া নাশ করতে পারে, ফলে আপনি হয়তো ভাবছেন ব্রণর ওপরে টুথপেস্ট লাগিয়ে ব্রণ কমাবেন, কিন্তু এতে আখেরে ত্বকের ক্ষতিই হবে। টুথপেস্টে নানা রাসায়নিক থাকে যা ত্বকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে ত্বক আরও খারাপ করে দিতে পারে। টুথপেস্ট নয়, বরং ব্রণর ওষুধ লাগান।

4) প্র: বাড়িতে বসে ব্রণ সারাব কী করে?

উ: বাড়িতে ব্রণ সারাতে চাইলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যেস করুন, ত্বকপরিচর্যার রুটিন/skincare routine মেনে চলুন, সঠিক প্রডাক্ট ব্যবহার করুন, পুষ্টিকর খাবার খান। মধু, অ্যালো ভেরা আর টি ট্রি অয়েলের মতো প্রাকৃতিক ওষুধও ব্যবহার করতে পারেন।

5) প্র: ব্রণর সেরা প্রাকৃতিক স্পট ট্রিটমেন্ট কী কী?

উ: টি ট্রি অয়েল, অ্যালো ভেরা জেল আর হলুদ ব্রণ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর স্পট ট্রিটমেন্ট। এই সব উপাদান সরাসরি ব্রণর ওপরে লাগিয়ে নিন, আর পেয়ে যান ব্রণমুক্ত স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক প্রাকৃতিক উপায়ে!